সেই একই দৃশ্য, সেই চেনা নায়ক। যখনই দলের ভাগ্য খাদের কিনারায় এসে দাঁড়ায়, তখনই দস্তানা হাতে প্রাচীর হয়ে ওঠেন বিশাল কাইথ। টাইব্রেকার মানেই যেন তাঁর চেনা মঞ্চ। আরও এক বার সেই অটুট ভরসার মান রেখে মোহনবাগানকে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে তুললেন সবুজ-মেরুনের দুর্গপ্রহরী। রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে পঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে জোড়া পেনাল্টি আটকে নায়ক তিনি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ট্রফির আরও কাছে পৌঁছে গেল পানাজিয়োটিস দিমপেরিসের দল।

পুরনো দলের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক দল সাজিয়েছিলেন বাগান কোচ। আলবের্তো, দ্রাজিচ, জেলকোভিচ ও ইরউইনকে এক সঙ্গে নামিয়ে ঝাঁপিয়েছিল দল। তবে ম্যাচের মাত্র আট মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে আশিস রাই মাঠ ছাড়ায় বড় ধাক্কা খায় সবুজ-মেরুন। পরিবর্তে নামেন অভিষেক সূর্যবংশী। এর পর বক্সের সামনে থেকে ইরউইনের দুরন্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। অন্য দিকে পঞ্জাবের বিশুর শট আলবের্তোর পায়ে লেগে গতিপথ বদলালেও দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় তা রুখে দেন সজাগ বিশাল। ছাংতের ভলি সরাসরি পঞ্জাব কিপারের হাতে জমা পড়লে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবেই। দ্বিতীয়ার্ধে মিগুয়েলকে নামিয়ে গতি বাড়ানোর চেষ্টা হলেও দু’দলের জমাট রক্ষণে কাজের কাজ কিছু হয়নি। অতিরিক্ত সময়ে শুভাশিস বসু বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষ হয় অমীমাংসিত ভাবেই।

এর পরেই শুরু স্নায়ুর যুদ্ধ। টাইব্রেকারে পঞ্জাবের মেসিবৌলি ও অর্শবীর সিংহ গোল করেন। সমতা ফেরান বাগানের রাহুল ভেকে ও অধিনায়ক শুভাশিস। তার পরেই শুরু হয় বিশালের ভেল্কি। পঞ্জাবের শাইজ়া ও বিশাল যাদবের পরপর দু’টি শট ডান ও বাঁ দিকে শরীর ছুড়ে রুখে দেন তিনি। বাগানের আলবের্তো গোল করলেও দ্রাজিচের শট আটকে আশা জাগিয়েছিলেন পঞ্জাবের পরিবর্ত কিপার মুহিত। পঞ্চম শটে পঞ্জাবের ঋষিকান্ত গোল করে স্কোর ৩-৩ করেন। শেষ শটের চাপ নিয়ে এগিয়ে যান মিগুয়েল ফিগুয়েরা। নর্থইস্ট ম্যাচে পেনাল্টি নষ্টের যন্ত্রণা ভুলে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়েই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেন তিনি। নিশ্চিত করেন ফাইনালের টিকিট।