রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। বহুদিন রামপুরহাট কলেজে শিক্ষকতাও করেছেন। রবিবার সকালে বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একটি ‘সুইসাইড নোট’ও উদ্ধার হয়েছে যদিও তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে পাড়া প্রতিবেশী থেকে শুরু করে গোটা রাজনৈতিক মহল। এরপরেই নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের ওঠাপড়া নিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। 

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, "রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু হৃদয়বিদারক নয়, এই ঘটনা সেই প্রত্যেক মানুষের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে রাজনীতি ও সাংবাদিকতারও একটি সীমারেখা থাকা প্রয়োজন।"

 "আজীবন শিক্ষক এবং জনসেবক আশিসদা সততা, মর্যাদা ও সরলতার সঙ্গে তাঁর জীবনের কয়েক দশক মানুষের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। রামপুরহাটের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তিত্ব এবং সমগ্র বীরভূম জেলার গর্ব।"

এর পাশাপাশি অভিষেক উল্লেখ করেছেন, "আত্মহত্যা করার আগে তার লেখা Suicide Note এ তিনি যে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও তাঁকে কালিমালিপ্ত করার যন্ত্রণার কথা লিখে গিয়েছেন, তা উপেক্ষা করা যায় না। বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে আজ অবশ্যই ভাবতে হবে, এমন এক রাজনীতির পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, যেখানে অভিযোগকে ক্রমাগত প্রচার করে বড় করে তোলা হয়, একজন মানুষের সারাজীবনের সুনামকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই জনতার আদালতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়া হয়।"

অভিষেক লিখেছেন, "যাঁরা এই অপপ্রচারের অংশ হয়েছিলেন, তাঁদের নিজেদের কথা ও কাজের মানবিক পরিণতি নিয়ে অন্তত আজ ভাবা উচিত। রাজনৈতিক লড়াই আসবে, যাবে। কিন্তু একটি জীবন চলে গেলে তাকে আর কখনও ফিরিয়ে আনা যায় না।বাংলা আজ তার অন্যতম এক সৎ অবং আদর্শবান ভূমিপুত্রকে হারাল। তাঁর পরিবার, ছাত্রছাত্রী, অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। এই অকল্পনীয় শোক সহ্য করার শক্তি ঈশ্বর তাঁদের দিন।"