উত্তরপাড়ার (Uttarpara) পর বেলেঘাটা। ১৮ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Trinamool MLA Kunal Ghosh) উপর পরপর হামলার অভিযোগ ঘিরে সরব হলেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। রবিবার বেলেঘাটায় (Beleghata) কুণালের গাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন অভিষেক। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দলবদলে রাজি না হওয়ায় একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ‘#VoteChor’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বিজেপিকে তুলোধন করেছেন অভিষেক।
আরও পড়ুন: উত্তরপাড়ার পর বেলেঘাটা, বিধায়ক কুণালের উপর প্রাণঘাতী হামলা
অভিষেকের নিশানায় সরাসরি বিজেপি (BJP)। তিনি বলেন, "তারা যদি মনে করে যে জনগণের রায়ের মাধ্যমেই তারা পশ্চিমবঙ্গে জয়ী হয়েছে, তবে যারা দল বদলাতে অস্বীকার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো ও এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করার প্রয়োজন কেন হচ্ছে?" একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, "সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ও হেনস্থা করেছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা ও সুরক্ষার যদি এই হাল হয়, তবে সারা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ নাগরিকদের কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, তা সহজেই বোঝা যায়।"
I strongly condemn the attack on Kunal Ghosh, MLA from Beliaghata. This is the second time in less than 18 hours that he has been attacked.
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) September 27, 2026
Armed goons have targeted and harassed an elected representative, allegedly because he has refused to change sides. If this is the state of…
রবিবার সকালে বেলেঘাটা বিধানসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় কুণাল ঘোষের গাড়িকে বাইকবাহিনী অনুসরণ করে এবং পরে ঘিরে ফেলে। গাড়ির কাচ ও বনেটে হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালানো হয়। তৃণমূল বিধায়ক বলেন, হামলার সময় তাঁর দিকে বন্দুকও তাক করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তাঁর আঘাতও লাগে। কোনওক্রমে গাড়ি নিয়ে নারকেলডাঙা থানায় ঢুকে নিজের প্রাণ বাঁচান তিনি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যপাল আর এন রবির (Governor R.N. Ravi) কাছেও হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন অভিষেক। তিনি রাজ্যপালের কাছে আর্জি জানিয়ে বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রতিটি অপরাধীকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং এই সহিংসতা ও ভয় দেখানোর চক্র বন্ধ করতে হবে।" অর্থাৎ, রাজনৈতিক হিংসা ও ভয় দেখানোর রাজনীতি বন্ধ করার বার্তা দিয়েছেন অভিষেক।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত প্রশংসায় অবাক! নির্বাচন কমিশন নিয়ে খবরের নেপথ্যের কাহিনি শোনালেন রিতিকা
রাজনৈতিক পরিচয় বা মতপার্থক্য যাই থাকুক, গণতন্ত্রে হিংসা ও ভয় দেখানোর কোনও জায়গা নেই তৃণমূল বিধায়কের উপর হামলার পর এমনই বার্তা দিলেন অভিষেক। এই তদন্ত কতদূর এগোয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।
















