কলকাতার দুর্গাপুজোর সৃজনশীল কাজ ও শিল্পীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ আর্থিক সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আদানি গোষ্ঠী। কলকাতা, বিধাননগর এবং দক্ষিণ দমদম অঞ্চলের আটটি নির্বাচিত পুজোকে মোট ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে এই শিল্পগোষ্ঠী। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুজো মণ্ডপের নান্দনিক রূপ ও শিল্পীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে দেশজুড়ে পরিচিতি দেওয়াই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিটি পুজোর জন্য বরাদ্দ ২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিকে দেওয়া হবে ১৫ লক্ষ টাকা এবং বাকি ১০ লক্ষ টাকা পাবেন সংশ্লিষ্ট মণ্ডপ বা প্রতিমার রূপকার। সংস্থার প্রধান গৌতম আদানির বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলার দুর্গাপুজোয় মণ্ডপগুলি এক-একটি অসাধারণ শিল্পপ্রদর্শনীতে পরিণত হয়, তাই সেই সৃষ্টির নেপথ্যে থাকা শিল্পীদের উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা তুলে ধরা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিল্পীদের নাম নথিভুক্ত করার শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে মণ্ডপ ও প্রতিমার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
উদ্যোগটির রূপরেখা অনুসারে, ১০ থেকে ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত বিশেষ প্রিভিউ প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে দর্শনার্থীদের জন্য একক প্রবেশ বা ‘সিঙ্গল এন্ট্রি’ ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া, পুজো সমাপ্তির পর নির্বাচিত মণ্ডপসজ্জা ও শিল্পকর্মগুলি ভবিষ্যতে আদানি গোষ্ঠীর আয়োজিত বিভিন্ন আর্ট এক্সিবিশন, মিউজিয়াম বা বিয়েনালেতে সাধারণের দেখার জন্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শহরের পুজো উদ্যোক্তা ও শিল্পীদের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছেন, থিম পুজোর বর্ধিত ব্যয়ের মধ্যে এমন বড় অঙ্কের অনুদান শিল্পীদের আর্থিক সংস্থান নিশ্চিত করবে এবং বাংলার শিল্পীদের কাজকে বৃহত্তর মঞ্চে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, উৎসবের সঙ্গে যুক্ত মানুষের একাংশের মত, দুর্গাপুজোর চিরাচরিত সর্বজনীন চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাধারণ দর্শনার্থীদের মণ্ডপ দর্শনের সুযোগ কতটা মসৃণ রাখা যায়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সব মিলিয়ে, শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর এই নতুন সম্পৃক্ততা বর্তমান উৎসবের পরিমণ্ডলে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
















