তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) টিকিটের ভোটে জিতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ছবি ব্যবহার করার পর 'বেইমান' জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া (MP Jagadish Chandra Barma Basunia) যোগ দিয়েছেন NCPI শিবিরে (যদিও এখনো সেই দলের সাংসদ স্বীকৃতি মেলেনি)। খাতায়-কলমে অন্য দল দেখানো হলেও আসলে যে তিনি বিজেপির (BJP) বি-টিম হিসেবে কাজ করছেন তা মোটামুটি স্পষ্ট তাঁর ভোটার থেকে তৃণমূলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের কাছে। বাংলায় বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই জেলার বাইরে ছিলেন কোচবিহারের সাংসদ এবং তাঁর স্ত্রী। একাধিকবার দিল্লিতে NDA বৈঠকে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এবার রাজ্যে ফিরে নিজের জেলায় রাতের অন্ধকারে 'লুকিয়ে' বাড়ি ফিরতে হল সস্ত্রীক জগদীশকে! তিনি ফিরছেন জানতে পেরে স্থানীয়দের একাংশ বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায়।জনরোষ ও স্লোগান-বিক্ষোভের মুখে পড়ে রাত ২টো নাগাদ কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হলেন বিধায়ক সঙ্গীতা রায় ও কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া। সকালেও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। 

বিজেপি বিরোধী ভোট পেয়ে নির্বাচনে জেতার পর নিজের আখের গোছাতে সেই বিজেপিকে সমর্থন করা তৃণমূলত্যাগী সাংসদ বিধায়কদের মেনে নিতে পারছেন না আমজনতা। এই তালিকায় রয়েছেন কোচবিহারের সাংসদও। পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন এই নেতাকে 'গদ্দার', 'বেইমান' আখ্যা দিয়েছেন তাঁর এলাকার বাসিন্দারা। বিধানসভা নির্বাচনে জেলার সিতাই আসনে একমাত্র জয় পেয়েছিল শাসকদল তৃণমূল, তবে জয়ের পর থেকে বিধায়ক সঙ্গীতা রায়কে এলাকায় দেখা যায়নি। দলের কঠিন সময়ে কেন তিনি পাশে নেই, সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। মমতাপন্থী তৃণমূলের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে যে এই ধরনের সাংসদরা নিজের এলাকায় মানুষের কাছে যেতে পারছেন না। সে কথা যে একশো শতাংশ সত্যি তা বোঝা গেল সোমবার রাতেই। জনপ্রতিনিধি দম্পতি ফিরতে পারেন সে খবর পেতেই দুপুর থেকেই সিতাই এলাকায় চাপা উত্তেজনা ছিল। সন্ধ্যার পর থেকেই সাংসদের বাড়ির আশপাশে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। রাত একটা নাগাদ জগদীশের পৌঁছোনোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই, তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমতে শুরু করে। তাঁকে ঘিরে রীতিমত বিক্ষোভও দেখান এলাকাবাসী।