কী আশ্চর্য সৌন্দর্যবোধ! মন্ত্রী মহাশয়া বন্যার বীভৎসতার মধ্যেই সৌন্দর্য খুঁজে পাচ্ছেন। আবার সুজলাং সুফলাং গান ধরেছেন বন্যা পরিদর্শনে গিয়ে! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে মাননীয়া মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মহাশয়া (Agnimitra Paul) কি এর মানে বোঝেন? মনে হল, তিনি এত জল দেখেই সুজলাং বলছেন! চতুর্দিক জল থৈথৈ...সব ভেসে গেল মানুষের। খরিপ মরসুমে ধান গাছ সব জলের তলায়, আর মন্ত্রী মহাশয়া এখানে সুফলাং দেখছেন ! হায়রে কপাল! মূর্খের হাতে রাজত্ব দিলে এরকমই তো হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। স্পিডবোটে চড়ে প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। এ পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু স্পিড বোটে জ্যাকেট পরে পরিদর্শনের সময় গোল বাঁধল ওনার একটি মন্তব্যে। বোটের উপর চশমা পরা ছবি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক, ও সব বাদ দিন। হঠাৎ তিনি বলে বসলেন, বন্যার যে এই অপরূপ সৌন্দর্য, তা পশ্চিমবঙ্গের মতো অন্য কোথাও নেই। আবার গান ধরলেন সুজলাং সুফলাং... তারপর ও আমার দেশের মাটি...। তা শুনেই রে রে করে উঠলেন সমালোচকরা। আর করবে নাইবা কেন? বন্যার দুঃসহ, দুর্গম, ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও মন্ত্রী মহাশয়া সৌন্দর্য উপভোগ করছেন!
পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর ও ভগবানপুরের কেলেঘাই নদী সংলগ্ন এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে অতিবৃষ্টি ও বিভিন্ন বাঁধ থেকে জল ছাড়ার কারণে। সেই পরিদর্শনে গিয়ে মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা না ভেবে, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বন্যার সৌন্দর্য উপভোগ করে এলেন। এমন মন্ত্রী পেয়ে কে না 'ধন্য' হবে! ত্রাণ শিবিরে গিয়ে সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা না শুনে স্পিডবোটে জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনের সময় তার আবেগি মন্তব্য নিয়ে চর্চা সব মহলে। ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। বিতর্ক ও সমালোচনা ঝড় বইছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, মন্ত্রী মহাশয়া দুর্গত মানুষের কষ্টের বদলে প্লাবিত এলাকার দৃশ্য দেখে আনন্দ উপভোগ করেছেন। সাধারণ মানুষ ও বিরোধী মহলে প্রশ্ন উঠেছে, লাখ লাখ মানুষ যখন বন্যায় কষ্ট পাচ্ছেন, তখন সেখানে গিয়ে এমন মন্তব্য বা আচরণ কি আদৌ সংবেদনশীল? এদিন আবার বন্যা পরিদর্শনে গিয়ে অবৈধ ইটভাটা ও নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বুলডোজার চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন।
















