দমদম বিমানবন্দরের (Netaji Subhash Chandra Bose International Airport) উপর নির্ভরতা কমিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তকে আকাশপথে যুক্ত করতে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। একসঙ্গে চারটি জায়গায় আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রের ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হল রাজ্য। সোমবার নবান্নে (Nabanna) কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডাকে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের পরিকাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে জেলার মানুষকে বিমান ধরতে শুধুমাত্র কলকাতার উপর নির্ভর করতে হবে না।

আরও পড়ুন: মস্তিষ্কের কার্যকলাপ নিয়ে গবেষণা! চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

তবে শুধু আঞ্চলিক বিমানবন্দর নয়, কলকাতার বিমান পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নত করতে আরও পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। দমদম বিমানবন্দরে যাত্রী ও বিমান চলাচলের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই চাপ সামলাতে নদিয়ার কল্যাণীতে (Kalyani) প্রায় ২ হাজার একর জমির উপর নতুন আন্তর্জাতিক গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লির নয়ডায় তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ধাঁচে এই বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: "লকেটের থেকেও ভালো অভিনেত্রী কোয়েল"! চরম কটাক্ষ কুণালের

এদিন নবান্নের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কিঞ্জারাপু রামমোহন নাইডু-সহ (Kinjarapu Ram Mohan Naidu) কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। চুক্তি স্বাক্ষরের পরেই রাজ্যে বিমান যোগাযোগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। বিমানবন্দর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সরাসরি বিগত সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, বিমানবন্দর-সহ একাধিক বড় প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র জমি চাইলেও আগের সরকার তা দিতে আগ্রহ দেখায়নি। আর সেই কারণেই বহু প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন থমকে ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, কলকাতায় দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির ক্ষেত্রেও জমি পাওয়া যায়নি। শুধু বিমানবন্দর নয়, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জাতীয় সড়ক এবং রেলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও দীর্ঘ দিন আটকে ছিল। এবার সেই পরিস্থিতি বদলে রাজ্যের পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নতুন বিমানবন্দরগুলি চালু হলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়বে না, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।

বিমান পরিষেবার পরিকাঠামোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণের দিকেও নজর দেওয়া দিচ্ছে রাজ্য সরকার। বেহালায় পাইলটদের জন্য একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সরাসরি আকাশপথের মানচিত্রে আরও স্পষ্টভাবে জায়গা করে নিতে পারে। একই সঙ্গে কলকাতার উপর চাপ কমিয়ে রাজ্যের ভিতরেই তৈরি হবে একাধিক নতুন বিমানবন্দর।