বিশেষ অধিবেশনে পাশ হল ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সংশোধনী বিল। বুধবার, বিধানসভায় পুরনো সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের প্রস্তাবও পেশ হয়। কলকাতা (Kolkata) ও হাওড়ায় (Howrah) পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুর্নবিন্যাসের জন্যেই বুধবার একদিনের অধিবেশন ডাকা হয়। অধিবেশন বিল পাশও হয়ে যায় এদিন অধিবেশনে হাওড়ার অনুন্নয়নের জন্য বিগত সরকারকে নিশানা করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কলকাতা পুরসভার (KMC) ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ২০০টি ওয়ার্ড করার জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। তবে সীমানা পুনর্বিন্যাস করতে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ড পিছু সর্বত্র ১৬ হাজার ভোটার রাখতে গিয়ে সীমানার পাশাপাশি বেশ কিছু প্রশাসনিক জটিল সমস্যা দেখা দেয়। সেই কারণে ৩১ জুলাই নয়া ওয়ার্ডের তালিকা প্রকাশ না করে পাঁচদিন পর ২০৯টি ওয়ার্ডের মানচিত্র পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে পাঠায় কলকাতা পুরসভা। ওয়ার্ড বাড়লেও কলকাতায় বরো ১৬টিই থাকছে বলে সূত্রের খবর।
গত ৮ বছর ভোট না হওয়া হাওড়া কর্পোরেশনের ৫০টি ওয়ার্ড ভেঙে সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ৬৮টি করার কাজও শুরু হয়। সেই নতুন ওয়ার্ডগুলির মানচিত্রও সম্পূর্ণ করা হয়েছে। নানা জটিলতার কারণে বিগত তৃণমূল সরকার (TMC Government) পুরভোট না করায় হাওড়ায় পুরপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক পরিষেবায় স্বাভাবিক করা যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর “তৃণমূল জমানায় হাওড়ায় দুর্নীতি হয়েছে। পুকুর বুজিয়ে বৈআইনি নির্মাণ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা তথৈবচ। পানীয় জলটুকুও সব বাড়িতে পৌঁছয় না। আমরা রাস্তা-নিকাশি-জল নিয়ে বিশেষ প্ল্যান করছি। ১৫ বছর ধরে হাওড়ার মানুষ বঞ্চিত। জনসংখ্যার তারতম্যের কারণেই ওয়ার্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। ওয়ার্ড (Ward) পুনর্বিন্যাস হলে নাগরিকরা সঠিকভাবে পরিষেবা পাবেন। মানুষের ভোটে হারবেন বলে, এতদিন ভোটই করতে দেয়নি তৃণমূল। আর্থিক বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা হাওড়া বঞ্চিত। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী, সংশোধনী বিল ২০২৬ নামে একটি বিল তৈরি হয়। প্রশাসনিক বৈষম্য ও পুর পরিষেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮টি বাড়ানো হবে।”
হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাই এদিন বিধানসভায় অভিযোগ করেন, গত সরকারের আমলে নাগরিকদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে দুষে তিনি বলেন, “নাগরিক পরিষেবার বদলে প্রতারণা হয়েছে মানুষের সঙ্গে। বালি পুরসভাকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো করে রাখা হয়েছে। হাওড়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা জলনিকাশির অব্যবস্থা। তা হাল ফেরাতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাওড়া পুরসভার উন্নয়নের স্বার্থে ৪ হাজার ৭০২ কোটি বরাদ্দ করেছেন।”
কেন এত বছরে হাওড়ায় উন্নয়ন করা হল না? একের পর এক এই প্রশ্নবাণের সাফাই দিতে প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) দাঁড়াতেই অধিবেশনে গোলমাল শুরু হয়। ফিরহাদের বলেন, “বালিতে উন্নয়নের জন্য হাওড়ার সঙ্গে জোড়ার পরিকল্পনা ছিল।” এরপরই জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে যান তিনি।
















