ফের দল ছাড়লেন আরাবুল। তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে (ISF) গিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই দলের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ এনে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। সমাজমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দলের নেতৃত্ব ও সংগঠনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। আরাবুলের দাবি, আইএসএফে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “আইএসএফের স্বৈরাচার ও একনায়কতন্ত্রকে আমি ধিক্কার জানাই।” আরও একটি পোস্টে তাঁর অভিযোগ, “আইএসএফের লুম্পেন বাহিনীর হাতে ভাঙড় জুড়ে যেভাবে অত্যাচার-অনাচার নেমে এসেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আমি এই দল থেকে পদত্যাগ করলাম।”
ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে থাকলেও আরাবুলকে সরাতে অনাস্থার উদ্যোগ নিয়েছিল আইএসএফ। তৃণমূলের কয়েকজন সদস্য আইএসএফের পাঁচ সদস্যের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া আরও এগোয়। গত ১৩ অগাস্ট কলকাতা হাই কোর্ট ওই অনাস্থা প্রস্তাবের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। ফলে সভাপতি পদ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আপাতত আদালতের নজরেও রয়েছে।
আরাবুলের সঙ্গে আইএসএফের দূরত্ব অবশ্য হঠাৎ তৈরি হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তার আগে তাঁর নেতৃত্বে ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল জয় পেয়েছিল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওই সমিতিতে আইএসএফ পাঁচটি আসন দখল করে। পরে তৃণমূলের কয়েকজন সদস্য দল ছেড়ে আইএসএফের সঙ্গে হাত মেলালে সমীকরণ বদলে যায়। সেই সংখ্যার জোরেই আরাবুলের বিরুদ্ধে অনাস্থার তৎপরতা শুরু হয়।
একদিকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদ নিয়ে আইনি জটিলতা, অন্য দিকে দলের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ সব মিলিয়ে কয়েক দিন ধরেই ভাঙড়ের রাজনীতিতে আরাবুলকে ঘিরে জল্পনা চলছিল। এবার নিজের সমাজমাধ্যমের পোস্টেই আইএসএফ ছাড়ার কথা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত আইএসএফের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
















