একদিকে পাহাড়ি রাস্তা তৈরির জায়গায় ধস, অন্যদিকে সেনা শিবিরের উপর দিয়ে বয়ে গেল হঠাৎ জলস্রোত। শুক্রবার সন্ধ্যায় এমনই জোড়া বিপর্যয়ের সাক্ষী অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh)। আপার সুবানসিরিতে মাটি-পাথরের নীচে চাপা পড়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আর দিবং উপত্যকায় (Dibang Valley) হড়পা বানের জেরে পাঁচ সেনা জওয়ানের (Army soldier) খোঁজ মিলছে না। রাত নামার পরেও দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যেতে হয়েছে প্রশাসনকে।
ধস হড়পা বানে বিপর্যস্ত অরুণাচল, জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ
Sponsored

দিবং উপত্যকার পাসু পানি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে সেনার একটি ক্যাম্পে। প্রবল জলের তোড়ে ৫ নম্বর গ্রেনেডিয়ার্সের দুটি অস্থায়ী শেল্টার ভেসে যায়। ওই সময় সেখানে থাকা সাত জওয়ানও জলের স্রোতে ভেসে যান। দু’জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বাকি পাঁচ জনের সন্ধান এখনও মেলেনি। নিখোঁজদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর (Army) পাশাপাশি ITBP, পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা মাঠে নেমেছেন।
অন্য বিপর্যয়টি ঘটে আপার সুবানসিরির কেওজারিং-বিয়াচিং সড়কে। সেখানে রাস্তা তৈরির কাজ চলার সময় আচমকা ধস নামে। মাটি ও পাথরের নীচে আটকে পড়েন কয়েকজন কর্মী। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদু বাকি, তাজি রাই, মার্কোস বসুমাতারি এবং বাবুল আলীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাবুল আলীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নাচো থানার পুলিশ ও দমকলের সঙ্গে পরে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় SDRF।
অরুণাচলে চলতি বর্ষায় এই ধরনের বিপর্যয় নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের হিসাব বলছে, বন্যা ও ধসের প্রভাবে এখনও পর্যন্ত ২৩৫টি রাস্তা, ৪০টি সেতু, ৭৫টি কালভার্ট এবং ৩৭৩টি পানীয় জল প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও প্রভাব পড়েছে—ক্ষতি হয়েছে ১৬১টি পাওয়ার লাইন ও ৮২৩টি বৈদ্যুতিক খুঁটির। স্কুল, সরকারি ভবন, সেচ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সহ একাধিক পরিকাঠামোও ক্ষতির মুখে। পাহাড়ি এলাকার দুর্গমতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকারীদের কাজ আরও কঠিন করে তুলেছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













