প্রফেসর শঙ্কুর 'বিধুশেখর'কে মনে আছে? সত্যজিতের তৈরি চরিত্রের যন্ত্রমানব বইয়ের পাতা থেকে সিনেমার পর্দায় যেভাবে বিস্ময় তৈরি করেছিল, অনেকটা সেভাবেই বাঁকুড়ায় নজর কেড়েছে 'বাচ্চু'। মালিকের নির্দেশমতো দোকানে থেকে জিনিসপত্র কিনে আনা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সঠিকভাবে নিয়ে আসা, ফর্দ মিলিয়ে বাজার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ একা সামলায় সে। এবার আপনার মনে হতেই পারে যে এ আর এমন কী ব্যাপার, এটাতো সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের কাজের মধ্যেই পড়ে। তাহলে আপনাদের জানিয়ে রাখি 'বাচ্চু' কোনও মানুষ নয়, সে হল 'কথা বলা রোবোটিক গাড়ি'। হ্যাঁ, একদম ঠিকই পড়ছেন। পাত্রসায়রে তৈরি হওয়া চার চাকার এই ছোট্ট যান একবার মালিক নির্দেশ পেলেই কাজ করার জন্য রেডি।
ওষুধ কেনা থেকে বাজার করা, দিনভর একগুচ্ছ কাজ বাঁকুড়ার রোবোটিক গাড়ি 'বাচ্চু'-র!
বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাচ্চু-র সফর বুঝিয়ে দেয় যে, নিউনর্মাল যুগে প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠতা কতটা প্রাধান্য পাচ্ছে।
Sponsored

কীভাবে জন্ম হলো বাচ্চুর? কেনই বা সে দ্রুত চলে এল খবরের শিরোনামে? এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে চিনে নিতে হবে শেখ জাহির আব্বাস আর অমিত বাগদি নামে দুই ব্যক্তিকে। একে অপরের দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাঁরা পাত্রসায়েরে একটি তথ্য সহায়তা কেন্দ্র চালান। ইন্টারনেটে দেখতে দেখতে দুজনের মনে রোবোটিক গাড়ি (Robotic Car) বানানোর ইচ্ছে জাগে। যেমন ভাবনা তেমন কাজ।রোবোটিক গাড়ি, টকিং ডিভাইস, মিনি ক্যামেরা-সহ নানা জিনিস কিনে বানানো হয় ‘বাচ্চু’কে। আব্বাসের কথায়, ‘একটা ভিডিয়ো দেখে আমার মনে হয়েছিল, আমরাও যদি এমন একটি গাড়ি তৈরি করতে পারি, তা হলে কাজের অনেকটা সুবিধা হবে।’ অনলাইনে কল কব্জা আনিয়ে দু লক্ষ টাকা খরচ করে ছমাসের চেষ্টায় ২০২৫ সালের মে মাসে বাচ্চুর অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটে।

সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল বাচ্চু। যেভাবে কথা বলা চার চাকার ছোট এই রোবটিক গাড়ি বাজার করা থেকে দোকান আনার মতো কাজ অনায়াসে করে চলেছে তা নজর এড়ায়নি নেটপাড়ার। স্থানীয়রা বলছেন রাস্তাঘাটে বাজার হাটে মাঝেমধ্যেই 'বাচ্চু'-কে দেখা যায় মালিকের দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে। ব্যাপারটা বেশ মজাদার। যদিও আব্বাস এটা নিয়ে ব্যবসা করতে চান না। নিজেদের প্রয়োজনের মধ্যেই এই গাড়ির ব্যবহার সীমিত রাখতে আগ্রহী দুই বন্ধু। বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাচ্চু-র সফর বুঝিয়ে দেয় যে, নিউনর্মাল যুগে প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠতা কতটা প্রাধান্য পাচ্ছে। বইয়ের পাতা কিংবা সিনেমার স্ক্রিনে 'বিধুশেখর'দের খোঁজার দিন হয়তো শেষ হয়ে আসছে। আগামীতে আরও অনেক 'বাচ্চু' এভাবেই মানুষের প্রকৃত বন্ধু হয়ে ওঠে এমন সব কীর্তি করবে যা হয়তো এখনও কল্পনার অতীত।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













