”কোনও গদ্দার এই অফিসে ঢুকবে না” লেখা ফ্লেক্স ঝুলিয়ে ড়ফা এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় দুলাল দাস ঠাকুর ভবন কার্যালয়ে তালা দিলেন মমতা-পন্থী তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা। সোমবার, বসুন্ধরা গোস্বামীর নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতীকে জিতে এনসিপিআই-তে যাওয়া সাংসদ সায়নী ঘোষের কার্যালয়ে তালা বন্ধ করা হয়েছে। সায়নী ঘোষের সহকারীকেও ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন মমতাপন্থী তৃণমূল কর্মীরা। সংসদের অধিবেশন চলায় এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন সায়নী৷ এ দিনের বিক্ষোভ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর কার্যত এড়িয়ে যান তিনি। 

তৃণমূলের প্রতীক ও  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া টিকিটেই চব্বিশের লোকসভা ভোটে যাদবপুর থেকে জয়ী হয়েছেন সায়নী। পালা বদলের পরে সুর বদলেছে সাংসদের। বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে এক অনামী দল এনসিপিআই-এ নাম লিখিয়েছেন সায়নী-সহ আরও ২০ তৃণমূল সাংসদ। তবে, স্পিকার স্বীকৃতি না দেওয়ায় খাতায় কলমে এখনও তৃণমূল সাংসদ তাঁরা। নিজের সংসদীয় এলাকা যাদবপুরেই সায়নীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তৃণমূলের।  

সোমবার সকালে আচমকাই গড়ফা এলাকার তৃণমূলের কার্যালয় দুলাল দাস ঠাকুর ভবন কার্যালয়ে বাইরে ভিড় জমান মমতাপন্থী তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা৷ কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর বসুন্ধরা গোস্বামীর নেতৃত্বেই শুরু হয় বিক্ষোভ৷ তাঁর কথায়, “আমাদের দলের পার্টি অফিসে সেফ এনভায়োরনমেন্টটা উনি, ব্যবহার করতে পারেন না। ওনার জনসংযোগ করার দরকার হলে, অন্য জায়গায় অফিস করে, সেখানে করুন। আমাদের অফিসে আর নয়। আমরা এটাকে মেনে নেওয়া বা সহ্য করব না।“ আরেক তৃণমূল নেতার কথায়, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথেই থাকব। উনি যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়েছেন, ওনার নিজের নৈতিকতা থাকা উচিত যে, আমি ওই পার্টি অফিসগুলিতে যাব না। ওনার নৈতিকতার অভাব আছে। সেটা বাংলার মানুষ দেখেছে, যখন ওনারা ২০ জন বেরিয়ে গিয়েছিল। তখনও বোঝা গিয়েছে, ওনাদের নৈতিকতার অভাব। এখনও বোঝা যাচ্ছে, এই নৈতিকতার অভাবের জন্য আজকে ওনাদের এই অবস্থা।“