বেতনভোগী কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তির ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মাসিক আয়ের উপর পেশা কর (professional tax) দেওয়ার করমুক্ত সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এত দিন মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি বেতন হলেই পেশা কর দিতে হতো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর থেকে মাসিক ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে আর কোনও পেশা কর দিতে হবে না। সম্প্রতি অর্থ দফতরের রাজস্ব বিভাগের তরফে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বেতনভোগী কর্মীদের জন্য স্বস্তি, পেশা কর নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্যের
বেতনভোগী কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তির ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মাসিক আয়ের উপর পেশা কর (প্রফেশনাল ট্যাক্স) দেওয়ার করমুক্ত সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
Sponsored

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, মাসিক বেতন বা পারিশ্রমিক ২০ হাজার টাকার বেশি থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে মাসে ১০০ টাকা পেশা কর দিতে হবে। মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকার বেশি থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে করের পরিমাণ হবে ১৪০ টাকা। ৫০ হাজার টাকার বেশি থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে মাসে ১৭০ টাকা এবং মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার বেশি হলে প্রতি মাসে ২০৮ টাকা পেশা কর ধার্য করা হয়েছে।
তবে ব্যবসায়ী এবং স্বাধীন পেশার করদাতাদের ক্ষেত্রে এই নতুন কর কাঠামো কার্যকর হবে আগামী আর্থিক বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল, ২০২৭ থেকে। তাঁদের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। বছরে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও পেশা কর দিতে হবে না। আড়াই লক্ষ টাকার বেশি কিন্তু পাঁচ লক্ষ টাকার মধ্যে আয় হলে বছরে ১ হাজার টাকা, পাঁচ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে ২ হাজার টাকা এবং ১০ লক্ষ টাকার বেশি আয়ে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা পেশা কর ধার্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পণ্য বা পরিষেবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করদাতাদের ক্ষেত্রেও কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বার্ষিক ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখা হয়েছে। ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে বছরে ১ হাজার টাকা, ২০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার মধ্যে হলে দেড় হাজার টাকা এবং ৪০ লক্ষ টাকার বেশি টার্নওভারে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা পেশা কর দিতে হবে।
এ ছাড়াও বিজ্ঞপ্তির ‘পার্ট-সি’ তালিকায় উল্লেখিত একাধিক নির্দিষ্ট পেশা ও ব্যবসার ক্ষেত্রে বছরে এককালীন ২ হাজার ৫০০ টাকা পেশা কর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আয় বা টার্নওভার যাই হোক না কেন, এই নির্দিষ্ট কর দিতে হবে। তালিকায় রয়েছে শপিং মল ও মাল্টিপ্লেক্সের দোকান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লার, জিম, নার্সিংহোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পেট্রোল পাম্প, বিভিন্ন সংস্থার পরিচালক এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সায়েন্স, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্রযোজক, অনলাইন শিক্ষাদাতা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির মালিকদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি একাধিক করের শ্রেণির আওতায় পড়েন, তবে তাঁর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ করের হারই প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি, নতুন পেশা কর কাঠামো নিয়ে কোনও আপত্তি বা পরামর্শ থাকলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৪ দিনের মধ্যে তা রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













