লাগাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমান-অসম্মান বিজেপির (BJP) রাজ্যসভার সাংসদের অনন্ত মহারাজের (Anant Maharaj)। মুখ বাঁচাতে তৃণমূল আমলে দেওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কাড়ল বর্তমান রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নের সভাঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সাফ জানিয়েছিলেন নেতাজির সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্যে কাউকে ছাড়া হবে না। তার পরে বৃহস্পতিবার এই অভিযোগে একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। বিকেলে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদের থেকে বঙ্গবিভূষণ কেড়ে নিল শুভেন্দু সরকার।
নেতাজিকে অপমানে ‘মুখ বাঁচাতে’ অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ কাড়ল বিজেপি সরকার!
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সাফ জানিয়েছিলেন নেতাজির সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্যে কাউকে ছাড়া হবে না। তার পরে বৃহস্পতিবার এই অভিযোগে একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। বিকেলে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদের থেকে বঙ্গবিভূষণ কেড়ে নিল শুভেন্দু সরকার।
Sponsored

কোচবিহারের স্বঘোষিত মহারাজ তথা গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতা ও বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ অনন্ত মহারাজ সম্প্রতি নেতাজির প্রতি অসম্মান করে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নাকি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) বিন্দুমাত্র ভূমিকা ছিল না! বলেন, “শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তা হলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল। কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হত, তবে দেশভাগ হত না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।”
এই বক্তব্য সামনে আসতেই নিন্দার ঝড়ে ওঠে। অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপি। প্রতিবাদে গর্জে ওঠে তৃণমূল (TMC)। স্বয়ং দলনেত্রী শ্যামবাজারের মোড়ে নেতাজি মূর্তিকে শ্রদ্ধা জানান। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "উত্তরবঙ্গ বিধায়করা প্রত্যেকে চান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিক। যেখানে যেখানে অভিযোগ, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় মামলা হবে। ফেসবুকে এবং সোশ্য়াল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির যে সিস্টেম রয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে পদক্ষেপ করার ব্যবস্থা করছি। নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে। আর যাঁরা দুঃসাহস দেখিয়েছেন, আমি তাঁদের অনুরোধ করব, অনুরোধ ঠিক নয়, পরামর্শ দেব, তাঁরা যে দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তা ভাল নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পুলিশ ভালভাবে নিচ্ছে না এটাকে। অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করুন। নিজেদের পোস্ট ডিলিট করুন এখনই। ডিলিট করলেই যে ছাড় পাবেন, তা নয়। নির্দিষ্ট ধারায় পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা হস্তক্ষেপ করব না।"
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের নির্দেশের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ৬ এফআইআর দায়ের হয়। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে দেশনায়ক বিরোধী ৮টি পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে বলে খবর মিলেছে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেশপ্রিয় পার্কের অমর একুশে উদ্যানে ভাষাদিবসের অনুষ্ঠানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গবিভূষণ সম্মান দেন অনন্ত মহারাজকে। এদিন বিকেলে রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, বিজেপি সাংসদের বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে, এর পরেও বিরোধীদের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন নিয়মের ঊর্ধ্বে কেউ নন, তাহলে একজন যদি নেতাজিকে অপমানজনক পোস্ট করে গ্রেফতার হন, তাহলে অনন্ত মহারাজের শুধু সম্মান কাড়া হল কেন! রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যের জন্যেই বা তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে বিজেপি সরকার! তবে, অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এটা প্রমাণ করছে, এই ঘটনায় চাপ বাড়ছে রাজ্যের শাসকদলের উপর।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













