বাংলা সংস্কৃতিতে এ কী ধরনের অপসংস্কৃতির আমদানি হল! নর্তকীকে কোলে তুলে উন্মাদ নৃত্য বিজেপি কর্মীদের! এটা কখনই বাংলার সংস্কৃতি ছিল না। বিজেপি সরকারের আমলে অপসংস্কৃতিতে ভরে যাচ্ছে সাধের সোনার বাংলা!

 

 বিজেপির নেতৃত্বেই কুরুচিকর আচরণ ঘটে চলেছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মহিলাদের কৌতূহলের বস্তু করে তোলা হচ্ছে। মহিলাদের দেখা হচ্ছে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, নারীদের প্রতি বিজেপির সম্মান কোথায়? বরানগরে শিব ভক্তদের জন্য আয়োজিত সেবা শিবিরকে যেভাবে বিনোদনের মঞ্চ করে তোলা হয়েছে, তার নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তৃণমূল লিখেছে, পবিত্র অনুষ্ঠানের প্রতি যে ভক্তি ও শ্রদ্ধা থাকা উচিত, তা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে বিজেপির জমানায়।


এই ধরনের আচরণ বিজেপি কর্মীদের মানসিকতার কোন রূপ ফুটিয়ে তোলে, তার আজ আর কারও জানতে বাকি নেই। ভারতীয় সমাজ কি সত্যিই এই দিকে এগিয়ে যাক, এটাই আমরা চাই? একটি সভ্য সমাজ দেখতে কি এমনই হয়?

বরানগরে ধর্মীয় একটি অনুষ্ঠান মঞ্চে নর্তকীকে কোলে তুলে নাচতে দেখা গেল এক বিজেপি নেতাকে! নর্তকীকে ঘিরে আরও কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে নাচতে দেখা যায়! সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এই দৃশ্য। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হয়নি এই সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে। এই ঘটনায় বিজেপিকে ঘিরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

গত শনিবার বরানগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিটি রোডের ধারে জল ঢালার জন্য বহু শিবভক্ত জমায়েত হয়েছিলেন। শিবভক্তদের জন্য জল, সরবত, বিস্কুট, খিচুড়ি-সহ খাবারের শিবির করা হয় রাস্তার ধারে। ওই শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় ১ নম্বর মণ্ডলের সহ-সভাপতি জিতেন্দ্র গিরি, যুব মোর্চার সম্পাদক মেহেলি চট্টোপাধ্যায় এবং শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ তাপস শর্মা-সহ স্থানীয় নেতৃত্ব। সেখানেই বসে গানের সঙ্গে চটুল নাচের আসর। নর্তকীর সঙ্গে কয়েকজন বিজেপি নেতা-কর্মী মঞ্চে উঠে বেলেল্লাপনা শুরু করে দেন। ওই নর্তকীকে কোলে তুলে নাচতে দেখা যায় এক নেতাকে! সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন বরানগরের তৃণমূল যুব নেতা শান্তনু মজুমদার। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, এটা শিবভক্তদের সেবা! বাংলার সংস্কৃতির নামে ‘অপসংস্কৃতি’ বরানগরের মানুষ মেনে নেবেন না। সদ্য ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ফেসবুকে লেখা হয়, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতাদের এই বেলেল্লাপনায় বৃহত্তর উদ্বেগের বিষয়টি অত্যন্ত গভীর। যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি নারীদের মর্যাদা ও অধিকার দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের বিনোদনের সামগ্রীতে পরিণত করে, তা একটি চরম পশ্চাৎপদ মানসিকতারই পরিচায়ক


এজন্য বিজেপির লজ্জা হওয়া উচিত। বাংলা তথা ভারতের সংস্কৃতিতে নারীদের জন্য আরও বেশি মর্যাদা, আরও বেশি সম্মান এবং শ্রদ্ধা থাকা দরকার। 
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি খোঁজ নিয়ে মন্তব্য করব বলে দায় এড়িয়ে ক্ষান্ত থাকে।