অনিলায়ন, মমতায়ন এবং শেষে শুভেন্দুনায়ন। বিজেপি যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, বাস্তবে হচ্ছে ঠিক তার বিপরীত ঘটনা। শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, রাজ্যের শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজনীতি দূর করবেন। কিন্তু শনিবার রাজ্যের ২৪৭ কলেজের পরিচালন সমিতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, অনিল বিশ্বাস যা করেছিলেন, সেই পথের পথিক আজকের শুভেন্দু অধিকারীও। 

শনিবার রাজ্যের ২৪৭ কলেজের পরিচালন সমতির সভাপতির যে তালিকা দেওয়া হয়েছে বিকাশ ভবন থেকে, তাতে দেখা যাচ্ছে কলেজের জিবির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন বিজেপির  সাংসদ বা বিধায়করা। তার বাইরে কেউ নেই। কলকাতায় শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় থেকে শুরু করে শুরু করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দমকল মন্ত্রীরাও আছেন। অর্থাৎ কলেজ পরিচালনায় মন্ত্রীরাও থাকবেন। ভাবা যায়! মুখ্যমন্ত্রী  কলেজের জিবিগুলি ভেঙে দিতে গিয়ে বলেছিলেন, শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত করতে হবে। এটা বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বশাসন দিতে হবে। এটা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন! এটা নাকি রাজনীতিমুক্ত করার উদাহরণ। আসলে বিজেপিকে জাঁকিয়ে বসানোর এটা ছোট্ট একটা ছক। 

রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দূরন্ত কথা বলেছেন। আমরা সব স্ক্রিনিং করে এই তালিকা তৈরি করেছি। প্রথম দফায় বিজেপির যে সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক গ্র‍্যাজুয়েট, তাদের নেওয়া হয়েছে। এখনও প্রায় ২০০ কলেজ বাকি আছে। সেখানে পরিচালন সমিতিতে শিক্ষাবিদ, সৈনিকদের নেওয়া হবে। কলেজ রাজনৈতিক আখড়া হবে না। তার মানে এই নয় যে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোনও ভূমিকা থাকবে না! চমৎকার পালটি। শুনলেও ভাল লাগে। 

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর দল এই সিস্টেমের পথিকৃৎ। সে সব ভুলে তিনি বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুযোগ্য ছাত্র শুভেন্দু, তার প্রমাণ দিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপির দুটো দাঁত। একটা দেখানোর, অন্যটি খাওয়ার। মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছিলেন, সেটা ছিল দেখানোর দাঁত। আর বিকাশ ভবনের বিজ্ঞপ্তি খাওয়ার দাঁতকে টেনে বের করে এনেছে। 

প্রতিশ্রুতিই সার। সেই ট্র‍্যাডিশন সমানে চলছে...