বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়ে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ী মহলে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। এবার সেই ধ্বংসলীলার নতুন শিকার রাজ্যের বেসরকারি বাস শিল্প! আকাশছোঁয়া জরিমানার চাপে কার্যত হাঁসফাঁস করছেন বাস মালিকরা (Bus Owners)। রাস্তায় বাসের সংখ্যা হু হু করে কমছে, আর তার জেরে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে কার্যত খাদের কিনারে ঠেলে দিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বর্তমান সরকার।
জরিমানার চাপে হাঁসফাঁস অবস্থা বাস মালিকদের!
Sponsored

দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সার্টিফিকেট অব ফিটনেস (certificate of fitness), মোটর গাড়ি কর এবং পারমিট নবীকরণের জরিমানার আর্থিক বোঝা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাস মালিকদের পক্ষে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ তো দূর, প্রয়োজনীয় নথিপত্র নবীকরণ করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চরম খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে, অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে গত ১০ অগাস্ট পরিবহণ দফতরের প্রধান সচিবের কাছে এককালীন বকেয়া জরিমানা মকুবের কাতর আর্জি জানিয়েছে বাস মালিকদের সংগঠন। তাদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে এই জরিমানার বোঝা মকুব না করা হলে রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। অথচ, এই বিপুল সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও সরকারের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বাস মালিকদের দাবি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ৪ মে পর্যন্ত বকেয়া থাকা সিএফ, ট্যাক্স এবং পারমিট সংক্রান্ত সমস্ত জরিমানা এককালীন মকুবের আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে 'বাহন' পোর্টালে থাকা বকেয়া জরিমানার নিষ্পত্তিরও অনুরোধ করা হয়েছে।মালিকপক্ষ স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, সরকার এই ছাড় দিলে তাঁরা দ্রুত সমস্ত কর ও ফি মিটিয়ে গাড়ি রাস্তায় নামাবেন। এমনকী ৪ মে-র পর কোনও নিয়মভঙ্গ হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জরিমানা মেটানোর অঙ্গীকারও করা হয়েছে। অর্থাৎ, পরিবহণ শিল্পকে বাঁচাতে মালিকরা যখন সবরকমভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তখন প্রশাসন কেন কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় আচ্ছন্ন, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। সরকার যদি এই আবেদন দীর্ঘদিন ফেলে রাখে, তবে শুধু যে গণপরিবহণ স্তব্ধ হবে তা নয়, হাজার হাজার বাসচালক, কন্ডাক্টর এবং পরিবহণ কর্মীদের পরিবার কার্যত পথে বসবে।
স্মারকলিপি জমা পড়েছে, প্রাপ্তিস্বীকারের সিলও পড়েছে, কিন্তু নতুন সরকারের তরফ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। বিষয়টি স্রেফ 'বিবেচনাধীন' রেখে দিয়ে সরকার প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, রাজ্যের গণপরিবহণ পরিকাঠামো বাঁচানো বা সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর দিকে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। অবিলম্বে এই পরিবহন-শিল্প বিরোধী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সরকার বাস মালিকদের প্রতি সদয় না হলে, আগামী দিনে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থা যে আক্ষরিক অর্থেই পঙ্গু হয়ে যাবে, তা নিশ্চিত।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













