আগের সরকারের আমলে কেন্দ্রের প্রকল্পের টাকা না দিয়ে বঞ্চনা করা হত বাংলাকে-অভিযোগ ছিল তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের (TMC)। কিন্তু পালাবদলের পরে রাজ্য ডবল ইঞ্জিন সরকার। মিলছে কেন্দ্রের বরাদ্দের টাকা। এর মধ্যেই সোমবার, নিউ টাউনের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরে কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ এবং পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, “রাজ্যের মৎস্যশিল্পের উন্নয়নে কেন্দ্রের তরফে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ঘোষণা করলেন, আজ থেকে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হল রাজ্য।“ 

কেন্দ্রীয় সরকারের মৎস্য দফতরের উদ্যোগে এই উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক দীর্ঘ সময় পর রাজ্যে অনুষ্ঠিত হল। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং (Rajivranjan Singh) ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং রাজ্যের মৎস্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মাহাতো। এদিনের বৈঠকে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ চাষের প্রসার, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং মৎস্যজীবীদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার সেই বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে মৎস্যক্ষেত্রে (Fisher Department) একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বাংলার মৎস্যশিল্পে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের মৎস্যক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “রাজ্যের মৎস্যশিল্পের বিকাশের জন্য কেন্দ্রের তরফে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’-র আওতায় বাংলার মৎস্যজীবীদের দ্রুত নথিভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় মৎস্যজীবীরা বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের সুবিধাও পাবেন।” শুভেন্দু অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বিরোধের কারণে রাজ্যের মৎস্যজীবীরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে আগে এই কাজ এগোয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে গত চার মাসে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মৎস্যক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের দক্ষতা বাড়াতেও উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। শুভেন্দু বলেন, “মৎস্যজীবীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’-র আওতায় রাজ্যের মৎস্যজীবীদের নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও রাজ্যে ছ’টি অমৃত সরোবর তৈরির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। এই জলাশয়গুলিকে কাজে লাগিয়ে মৎস্যচাষের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।”

উপকূল এলাকায় মৎস্যচাষের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ”এ রাজ্যের উপকূল এলাকা সুন্দরবন-সহ জলজীবনকে আরও উন্নত করা হবে। সেসব নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমাদের এখানে প্রচুর সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গে যেমন সমুদ্র, নদী রয়েছে, সেখানকার মৎস্যজীবীদের সমস্যা কম। কিন্তু শুষ্ক বাকুঁড়া, পুরুলিয়ায় মাছচাষে সমস্যা। আমাদের প্রস্তাব মেনে, এই জেলাগুলিতে মোট ৬টি অমৃত সরোবরে অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।” 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জনও নতুন রাজ্য সরকারের প্রশংসা করন। তাঁর কথায়, ”বিগত বছরগুলিতে আমরা এখানে সুবিধা দিতে চেয়েও পারিনি। কারণ, রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা সাহায্য করেননি। যে কাজ ৫ বছর ধরে আটকে ছিল, চারমাসেই তা হয়ে গেল।”