নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় এক বড়সড় প্রশাসনিক বদল আনল কেন্দ্রীয় সরকার। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের ৬বি ধারার অধীনে আবেদন গ্রহণ, নথিপত্র যাচাই এবং যোগ্য ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব প্রদানের চূড়ান্ত ক্ষমতা এবার জেলাশাসকদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এই মর্মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ‘দ্য সিটিজেনশিপ (থার্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। নতুন এই নিয়মের ফলে এতদিন যে ক্ষমতা ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ ও ‘ডিজ়িগনেটেড অফিসার’-এর হাতে ছিল, তা পুরোপুরি জেলা স্তরের প্রশাসনিক প্রধানের আওতায় চলে এল।

কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নাগরিকত্ব নিষ্পত্তির গতি অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির উদ্বাস্তু মতুয়া সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া জেলা স্তরেই সম্পন্ন হওয়ার পথ সুগম হওয়ায় রাজ্যের মতুয়া সমাজ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও গুজরাত, রাজস্থান ও পঞ্জাবে অবিলম্বে এই নয়া ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। পাশাপাশি অসম ও ত্রিপুরার উপজাতি এলাকা বাদে বাকি অংশ এবং জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকেও এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে। অনলাইনে জমা পড়া আবেদনের নথি যাচাই, প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান এবং নাগরিকত্ব আইনে নির্ধারিত আনুগত্যের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি জেলাশাসকই পরিচালনা করবেন। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আবেদনকারীকে যোগ্য বলে মনে হলে তিনিই ভারতীয় নাগরিকত্ব মঞ্জুর করবেন। তবে উপযুক্ত সুযোগ পাওয়ার পরেও আবেদনকারী যদি শপথ গ্রহণের জন্য সশরীরে উপস্থিত না হন, সে ক্ষেত্রে আবেদন সরাসরি খারিজ করার পূর্ণ ক্ষমতাও থাকবে জেলাশাসকের হাতেই।