"যাঁদের এই অর্থ প্রয়োজন নেই, কোটিপতি, লক্ষপতি, অর্থশালী, আমি আশা করব তাঁরা, যাঁদের প্রয়োজন নেই তাঁদের সেই অর্থ যাতে আরেকটি বোন পান, তার সুযোগ তাঁরা করে দেবেন। এতটাই আমি আপনাদের সকলের কাছে প্রার্থনা করব।" অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে নাগরিক সচেতনার আবেদন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার মহাজাতি সদনে উত্তর কলকাতার মহিলাদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভা করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বলেন, জুন ও ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৮০ লক্ষ ফর্ম জমা পড়েছে। উত্তর কলকাতায় (North Kolkata) ১০ জুলাই পর্যন্ত জমা পড়া ফর্মগুলির মধ্যে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তার মধ্যে ৭ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৭৬,৮১৭ জন মহিলাকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁদের অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রদান শুরু হয়েছে। ২০ তারিখ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি পোর্টাল চালু হবে বলেও জানান শুভেন্দু। একই সঙ্গে কোনও ‘অযোগ্য’ কারও নাম অন্নপূর্ণা যোজনায় (Annapurna Yojana) থাকলে দ্বিতীয় কেউ আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ করতে পারবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘যোগ্য’ হয়েও টাকা না মিললে অভিযোগ জানানো যাবে বলে আশ্বাস রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের।
‘অযোগ্যদের’ বিরুদ্ধে পোর্টালে অভিযোগের সুযোগ, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে অর্থশালী মহিলাদের কী আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে নাগরিক সচেতনার আবেদন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার মহাজাতি সদনে উত্তর কলকাতার মহিলাদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভা করা হয়।
Sponsored

চলতি মাস থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এদিন অন্নপূর্ণা যোজনায় উপভোক্তাদের মত বিনিময়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০ তারিখের মধ্যে যোজনার টাকা না পেলে কী করবেন। একই সঙ্গে কারা পাবেন আর কারা পাবেন না সে বিষয়টিও জানান শুভেন্দু। নতুন সরকারের উপর সবাইকে ভরসা রাখার আবেদন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা মেনে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে বিজেপি সরকার (BJP Government)। এর জন্য একটি ফর্ম বিতরণ করা হয়। ফর্মটি (Form) অনেক পাতার হলেও কার্যত মাত্র ২–৩টি পাতা পূরণ করার প্রয়োজন ছিল। তিনি জানান, জুন ও ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৮০ লক্ষ ফর্ম জমা পড়েছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত উত্তর কলকাতায় জমা পড়া ফর্মগুলির মধ্যে ঝাড়াই-বাছাই হয়েছে। তার মধ্যে ৭ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৭৬,৮১৭ জন মহিলাকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁদের অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রদান শুরু হয়েছে।
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০ তারিখ থেকে রাজ্য সরকারের এই বিষয়ে একটি পোর্টাল চালু করবে। সেখানে কোনও যোগ্য আবেদনকারী টাকা না পেলে তিনিও অভিযোগ জানাতে পারবেন। আবার কেউ যদি মনে করেন কোনও অযোগ্য মহিলা অর্থ পেয়েছেন, তাহলে তিনি আপত্তি জানাতে পারবেন। অভিযোগগুলি সংশ্লিষ্ট দফতর যাচাই করবে। বলেন, “২০ তারিখ থেকে একটি পোর্টাল শুরু করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal)। যদি মনে হয় কোনও অযোগ্য কেউ টাকা পেয়েছেন। তাহলে আপত্তি জানানো যাবে। যোগ্য হয়েও ২০ তারিখের মধ্যে টাকা না ঢুকলে অভিযোগ জানানো যাবে। নিষ্পত্তি করা হবে। প্রত্যেক মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে টাকা যাবে ব্যাঙ্কে। মা-দিদিদের কোথাও যেতে হবে না।”
এর পরে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, "যাঁদের এই অর্থ প্রয়োজন নেই, কোটিপতি , লক্ষপতি, অর্থশালী, আমি আশা করব, যাঁদের প্রয়োজন নেই তাঁদের সেই অর্থ যাতে আরেকটি বোন পান, তার সুযোগ তাঁরা করে দেবেন। এতটাই আমি আপনাদের সকলের কাছে প্রার্থনা করব।"
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে স্থানীয় মহিলা মোর্চার নেতৃত্ব সহযোগিতা করবেন। মহিলাদের অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের উপর অত্যাচার বা অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উত্তর কলকাতার সাতটি ওয়ার্ডে মহিলাদের নিয়ে একটি সংগঠিত গোষ্ঠী তৈরির পরামর্শও দেন শুভেন্দু। বলেন, “উত্তর কলকাতার ৬০টি ওয়ার্ডে নিজেদের মধ্যে গ্রুপ তৈরি করে নেবেন। যাতে মহিলার উপর কোনও অত্যাচার হলে তাতে রুখে দাঁড়াতে পারেন। আপনারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিনী হিসাবে কাজ করবেন। চলতে চলতে একজনও যোগ্য মাতৃশক্তি এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হবেন না।”
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













