পাঠ্যবইয়ে ৪ লাইনের মধ্যে শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদানের ইতিহাসকে আবদ্ধ না রেখে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে তাঁর ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে। মঙ্গলবার, স্বাধীনতা সংগ্রামী শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে কেশপুরের মোহবনিতে ক্ষুদিরামের ভিটেতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিষয়ে শিক্ষা দফতরের কাছে আবেদন জানান তিনি। মহবনি উন্নয়ন পর্ষদের অ্যাকাউন্টে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দর কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন কেশপুরের মোহবনিতে ক্ষুদিরামের পৈতৃক ভিটেতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তাঁর কপ্টার কোলাঘাটে জরুরি অবতরণ করে। প্রতিকূলতা কাটিয়ে কেশপুরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা সংগ্রামে ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদানকে স্মরণ করে তাঁর ভিটে সংস্কারে একগুচ্ছ ঘোষণা করেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, আজকের প্রজন্মকে শহিদ ক্ষুদিরামের জীবনী ছড়িয়ে দিতে হবে। তাঁর কথায়, “সিলেবাসের ৪ লাইনে আটকে রাখা হয়েছে ক্ষুদিরামকে। তা করলে হবে না। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে তাঁর ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে। এর জন্য আমি শিক্ষা দফতরের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। গীতা নিয়ে ও মুখে বন্দে মাতরম্ গেয়ে ফাঁসির মঞ্চে ওঠার হার-না-মানা লড়াই বিশদে পড়াতে হবে। নতুন প্রজন্মকে এই অতীত চেনাতেই হবে।"
এদিন শুভেন্দু জানান, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁকে ফোন করে ক্ষুদিরাম বসুর জীর্ণ পৈতৃক ভিটের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানান, "অমিত শাহজি আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ক্ষুদিরামের পৈতৃক ভিটে সংস্কার ও সংরক্ষণে বিশেষ পরিকল্পনা করতে। আমি তাঁকে জানাই যে ১১ তারিখ আমার সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।" এর পরেই ক্ষুদিরাম বসুর জীর্ণ পৈতৃক ভিটে সংস্কারে কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, "প্রাথমিক ভাবে মহবনি উন্নয়ন পর্ষদের অ্যাকাউন্টে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হল। এই বর্ষার মরসুমেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অক্টোবর থেকে পূর্ণদমে কাজ শুরু হবে। আগামী বছর এই রূপায়ণ স্বচক্ষে দেখতে চাই।"
উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পৈতৃক ভিটে সংস্কারের পাশাপাশি সেখানে একটি জাদুঘর, গ্যালারি, লেজার শো ও গবেষক-পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর (DPR) তৈরি হচ্ছে বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "কেশপুর মানেই বোমা-গুলির আওয়াজ, মিথ্যে মামলা, একদলীয় সন্ত্রাস কিংবা কাটমানির সংস্কৃতি—এই ধারণা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। কেশপুর মানে হবে বীর ক্ষুদিরাম বসুর পুণ্যভূমি।"
জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের ভাবধারা ছড়াতে সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান সরকারের আমলে আমরা স্কুলে প্রার্থনার সময়ে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছি। বিহারেও এনডিএ সরকার আজ সকালে বীর বিপ্লবীকে বিশেষ স্যালুট জানিয়েছে।"
















