বিজেপির মদতে ফের গেরুয়াকরণ অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে, এদিকে ' বিবেক' সাজার মরিয়া চেষ্টা শমীক ভট্টাচার্যের। শিল্প-সংস্কৃতির মুক্তাঙ্গনে জোর করে রাজনৈতিক রং চাপানোর চরম ও উগ্র প্রদর্শন বিজেপির। চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের দেওয়ালে ফের জোর করে লেপে দেওয়া হল গেরুয়া রঙের প্রলেপ। এই গোটা কর্মকাণ্ডের সময় পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। উঠল 'জয় শ্রীরাম' ও 'বন্দে মাতরম' স্লোগান। 

যেখানে এই ঘটনার লোক দেখানো নিন্দা করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেছিলেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেখানে বিজেপি বিধায়কের সামনেই গেরুয়া রং করে জয় শ্রীরাম ধ্বনি উঠল। এরপরেও নিজেদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় বড় বুলি কপচায় বিজেপি। মঙ্গলবারই  বাংলার বিশিষ্ট শিল্পী ও নাট্যকর্মীরা নিজেদের হাতে তুলি তুলে নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ফেরাতে সাদা রং করেছিলেন, কিন্তু ২৪ ঘন্টা না কাটতেই গায়ের জোরে  একদল বিজেপি সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে সেই সাদা রঙের ওপর আবারও গেরুয়া রং করে দিলেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। গত ১২ জুলাই কোনও রকম প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই অ্যাকাডেমির মূল ফটকের পাশের একটি নিরাপত্তা কক্ষে হঠাৎ গেরুয়া রং করে দেওয়া হয়। ঐতিহ্যের এই বিকৃতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী, চন্দন সেন, এবং মেঘনাদ ভট্টাচার্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। এমনকি বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের তরফে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। শেষমেশ শিল্পীরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে মঙ্গলবার সেই দলীয় রঙের কলঙ্ক মুছে সাদা রং ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টাও কাটল না। বুধবার ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দিতে দিতে বিজেপির বাহিনী এসে ফের সেই দেওয়ালে গেরুয়া রং লেপে দিল। এই ঘটনা স্রেফ ‘রংবদল’ নয়, বরং বাংলার স্বাধীন সংস্কৃতিকে জোরপূর্বক কুক্ষিগত করার নোংরা প্রচেষ্টা।

বিজেপি মুখে ‘রাজনীতিকরণ চাই না’ বললেও, কাজে ঠিক তার উল্টোটা করছে। ক্ষমতার দম্ভে একটি হেরিটেজ প্রতিষ্ঠানের গায়ে বারবার জোর করে দলীয় পরিচয় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নাট্যকর্মীদের স্পষ্ট বক্তব্য, আগেও বহু সরকার এসেছে এবং গিয়েছে, কিন্তু এভাবে শিল্পচর্চার আঙিনায় গায়ের জোরে দলীয় প্রতীক বা রং চাপানোর এমন বর্বর মানসিকতা আগে কখনও দেখা যায়নি।