বিধায়ক, মন্ত্রী বা ডেপুটি স্পিকার হলেও রাজনীতিতে বরাবরই বিতর্কহীন থাকতেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর মৃত্যুকে ঘিরেই দানা বাধল বড়সড় রহস্যের। শনিবার রাত পর্যন্ত দলীয় কর্মী, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। রবিবার সকালেই দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ। কার্যালয় থেকে হাতে লেখা এক পাতার একটি ‘সুইসাইড নোট’ও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ছাত্র রাজনীতি থেকেই উঠে ছিলেন, নিজে ডক্টর ছিলেন। রামপুরহাট কলেজে অধ্যাপনা করতেন। সংসদীয় রাজনীতির আঙিনাতেও সাফল্য পেয়েছিলেন। কিন্ত রাজনীতি করাই কি কাল হল  আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের? সুইসাইড নোট সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। নোটে এক জায়গায় লিখেছেন, ‘রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে।’ 

রাজনীতিতে থাকবেন কিন্ত দুনীর্তির অভিযোগ বিরোধীরা তুলবে না সেটা বাংলার রাজনীতিতে বিরল।  তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ অর্থাৎ TRDA চেয়ারম্যান ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।  এই পর্ষদের দায়িত্ব ছিল তারাপীঠের উন্নয়ন করা, এবং এই টিআরডিএ-র মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচা হয়েছে তৃণমূল জমানায়, । আর এই টিআরডিএ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।

রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহার বক্তব্য ছিল, প্ল্যান-পাশ থেকে শুরু করে,একাধিক বিষয়ে সেখানে টাকা নেওয়া হয়েছে। রামপুরহাটে যে পরপর হোটেল তৈরি হয়েছে,  টাকা নিয়ে সেই সব হোটেলের সমস্ত অনুমতি দিয়েছে এই টিআরডিএ বলে অভিযোগ।

 

 নিজের সুইসাইড নোটে   আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘‘টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না।  চেক সই বা প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।  আমাকে অপমান (ম্যালাইন) করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাক।’’

একইসঙ্গে লিখেছেন, “ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।  বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলাম। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বিতর্ক হয়ত হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’’ 

উল্লেখ্য গত ২১ জুলাই শহিদ দিবসে যাওয়ার পথে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুমকি দিতে শোনা যায়। রাস্তায় তাঁর গাড়ির সামনে এসে এক যুবক বলেন, কী করতে যাচ্ছেন? দলটা শেষ হয়ে গেল তারপর যাচ্ছেন? বয়স্ক না হলে ছাল তুলে দিলাম।

বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেছেন, কে বা কারা ওনাকে অপমান করেছেন সেটা তৃণমূল দল বলতে পারবে, আমার আমাদের দলের পক্ষ থেকে ওনাকে কিছু বলা হয়নি।