তিন মাস ধরে নিখোঁজ ২৪ বছরের মেয়ে। তাঁর সন্ধানে বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে এক দরজা থেকে ও দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বৃদ্ধ পিতা। এরই মধ্যে আচমকা একটি ফোনে খবর এল, মেয়েকে আটকে রাখা হয়েছে আসানসোলের এক বাড়িতে। খবর পেয়েই বুকভরা আশা নিয়ে পুলিশের গাড়িতে চেপে সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন বীরভূমের অর্ধেন্দু সিংহ। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। তল্লাশি চালিয়েও মেয়ের হদিশ মিলল না। ফের এক বার নিরাশ হয়ে, শূন্য হাতেই বাড়ি ফিরতে হল অসহায় বাবাকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ থেকে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান বীরভূমের বাসিন্দা, বছর চব্বিশের তরুণী অমৃতা সিংহ। পরিবার সূত্রে খবর, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে উপার্জন করার তাগিদে কাউকেই কিছু না বলে সেদিন বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকে কেটে গিয়েছে তিন মাসেরও বেশি সময়। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষ বার অমৃতাকে মল্লারপুর বাসস্ট্যান্ডে দেখা গিয়েছিল। তার পর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ মেলেনি। তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার খবর সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বীরভূম জেলা পুলিশের তরফে জোরকদমে তল্লাশি শুরু হয়। মেয়েটির খোঁজে একটি বিশেষ দল গঠন করেছে জেলা পুলিশ। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ এবং সিআইডিরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি নিখোঁজ তরুণীর বাবারকাছে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে দাবি করা হয়, তাঁর মেয়েকে আসানসোলের কুলটি থানা এলাকার একটি বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এই খবর পাওয়া মাত্রই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে সিউড়ি থানায় ছোটেন বৃদ্ধ। যোগাযোগ করা হয় বীরভূম জেলার পুলিশ সুপারের দফতররের সঙ্গেও। খবরের গুরুত্ব বুঝে পুলিশকর্তারাও দেরি করেননি। সিউড়ি থানার এক অফিসার এবং দু’জন মহিলা কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে, পুলিশের গাড়িতে করেই আসানসোলের কুলটি থানা এলাকায় পাঠানো হয়। নির্দিষ্ট ওই বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি এবং তল্লাশির পরেও অমৃতার কোনও সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত জানা যায়, ফোনের খবরটি ভুয়ো ছিল। সিউড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই ভুয়ো ফোনের উৎস কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তরুণীর সন্ধানে তল্লাশি জারি রয়েছে।
















