সবং-এ বন্যা পরিস্থিতির কারণে মৃত ২ জনের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ৩২০০ বাড়ি। প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার হবে। ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার দুপুরে পশ্চিম মেদিনীপুরে (West Midnapur) বন্যা পরিস্থিতির বিস্তীর্ণ এলাকা আকাশপথে পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানেই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একগুচ্ছ নির্দেশ দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আকাশপথে সবং ভগবানপুর, পটাশপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি জানান, কেলেঘাই নদীর জলস্তর এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিন সবং-সহ বন্যা কবলিত এলাকার বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ১০ জনকে সাপে কামড়েছে। সকলকে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এদিন, জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, পিএইচই দফতরের আধিকারিক ও জেলার সব বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জলবন্দি মানুষের কাছে রেশন ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ারও নির্দেশ দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “এখানে বন্যার কারণে ২ জন মারা গিয়েছেন। তাঁদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। শুধুমাত্র সবং ব্লকেই ৩২০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সব পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।“ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানান, “পুলিশকেও আলাদা করে টাকা দেওয়া হয়েছে। তারা যাতে জলবন্দি মানুষের বাড়িতে রেশন এবং খাবার জলের ২০ লিটারের জার পৌঁছে দিতে পারে। আকাশপথে পাঁচটা গ্রাম পঞ্চায়েত দেখেছি। পর্যালোচনা করে যা নির্দেশ দেওয়ার দিলাম। ১০টা সাপে কাটার কেস এসেছে। প্রত্যেককে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। স্বাস্থ্য দফতর ভালো কাজ করেছে।“
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “এলাকার মানুষজন বলছিলেন, ১৯৮৬ সালে জ্যোতি বসু এখানে এসেছিলেন। তারপরে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এখানে এলো। কী করা যাবে, আগের মুখ্যমন্ত্রীরা গ্রামের মানুষকে মানুষ বলে মনে করতেন না। আর আমার সঙ্গে গ্রামের মানুষের নাড়ির টান। গ্রামেই আমার শুরু, গ্রামেই শেষ।”
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মাহাতকে (Rajesh Mahato) পশ্চিম মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতির উপর নজরদারি জন্য সেখানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। জানান, “রাজেশ মাহাতো স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁকে এখানে রেখে দিয়ে গেলাম। আরও ২ দিন থাকবেন। সকলেকে বাড়ি না ফিরিয়ে দেওয়া পর্যন্ত। শস্যবিমার তালিকা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত।“
















