তারাপীঠ থানা সংলগ্ন হোটেলে ভোররাতের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত কমপক্ষে ৭ এবং আহত ৫। প্রথমে হোটেলের রিসেপশনে আগুন লাগে এবং সেই থেকেই চারতলা হোটেলে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। হোটেলের আবাসিকরা সকলেই তখন ঘুমোচ্ছিলেন। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী এদিন এসেছিলেন তারাপীঠে। আগুন লাগতেই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু পুণ্যার্থী। প্রথমিকভাবে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আপাতত মনে করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ড। আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। 

তারাপীঠ থানার কাছে একটি পুকুরের কাছেই হোটেল ‘বিদেশিনী’। পাঁচতলা ওই হোটেলের নীচে সোমবার ভোরের দিকে আগুন লাগে। হোটেলের আবাসিকেরা সেই সময়ে ঘুমোচ্ছিলেন এবং শিশুরাও ছিল। ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় চারদিক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন অনেকটা ছড়িয়ে পড়ায় ঘরের মধ্যেই আটকে পড়েন অনেকে। আতঙ্কে গোটা হোটেলে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। খবর পেয়ে তারাপীঠ থানার পাশাপাশি রামপুরহাট থানার পুলিশও সেখানে পৌঁছয়। ঘটনাস্থলে যায় দমকলও। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও হোটেলের নীচতলার অনেকটা অংশই পুড়ে গিয়েছিল। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি ফেটে গিয়ে আগুন ধরে যায়। ওই হোটেলের মালিক জানিয়েছেন রাতে যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন ও বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন। কিন্তু তার মধ্যেই হোটেলের ফাইবারের যে জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যায়। আতঙ্কে ঘর থেকে আবাসিকেরা বেরিয়ে আসতে শুরু করলে তাঁরা বাইরে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। পিছন দিক দিয়ে বেরোনোর দরজা থাকলেও অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সেটা অনেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাঁরা রিসেপশন দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করলেই ঝলসে যান। হোটেলের উপরের তলাতে অনেকে আটকে পড়েছিলেন। নীচে আগুন থাকায় তাঁরা বেরোতে পারছিলেন না। অনেকে জিনিসপত্র নীচে ফেলতে শুরু করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, মালদহ, আলিপুরদুয়ারের পুণ্যার্থীরাও ওই হোটেলে ছিলেন। তবে এখনও মৃতদের নাম, পরিচয় জানা যায়নি।