তারাপীঠের মন্দিরের কাছে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।  ভোরবেলা আগুন লেগে যায় হোটেলে। এর ফলে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় হোটেলে থাকা আবাসিকদের মধ্যে। এরই মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে কোন ক্রমে নিজেদের রক্ষা করে হোটেলে থাকা গেস্টরা। সন্তানসহ নিজের পরিবারকে আগুনের হাত থেকে বাঁচানোর অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন হোটেলের মধ্যে থাকা একাধিক আবাসিক। 

হোটেলের থাকা এই গেস্ট তপন মণ্ডল বলেন, “আমরা নিচের তলায় ছিলাম রিসেপশনের ঠিক পাশের ঘরেই। আগুন লাগার পরেই বেরোনোর চেষ্টা করছি কিন্তু তখন দেখছি আগুন ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেছে। সেই সময় আমি দুই সন্তান. স্ত্রী, বোন ঘরে ছিলাম। পাশের ঘরে আমার মা অন্য আর এক বোন ছিলেন। আগুন লাগতেই আমরা বাথরুমের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলাম কল খুলে জল চালিয়ে দিয়েছিলাম। নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য বাথরুমে কাঁচ ভেঙে ফেলি, তারপর তারাপীঠ থানা থেকে এসে উদ্ধার করে। আমার বাচ্চারা অজ্ঞান হয়ে যায়। আমার বাঁচার কথা নয়…ভগবান বাঁচিয়েছেন। উল্টোদিকের সাতজন মরে গেছেন। বাচ্চা নিয়ে বেরিয়ে গেছি।”“

 হোটেলের মধ্যে থাকো আরও একজন কোচবিহারে বাসিন্দা দেবাদৃতা দত্ত জানিয়েছেন, “আমরা ঘুমোচ্ছিলাম বাইরে চিৎকার শুনে ঘরের দরজা খুলে দেখি প্রচণ্ড আগুন এবং ধোঁয়া। বারান্দা না থাকলে দম বন্ধ হয়ে মরে যেতাম। কীভাবে যে নামলাম বলতে পারব না।”

 হোটেল মালিক কল্যাণ পাল জানিয়েছেন, “ভোর চারটে নাগাদ এসির শটসার্কিট থেকেই আগুন ধরে যায়। রাতে পাহারার দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা সঙ্গে সঙ্গে আগুন নেভানোর যন্ত্রগুলি সচল করেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।দমকল কর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে দিলেও ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে যায় এর ফলে আতঙ্কে অনেকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে এবং যেহেতু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল, তাই হোটেলের পিছন দিকে একটা বেড়ানোর দরজা ছিল কিন্তু সেটা অনেকেই খুঁজে পাননি। রিসেপশন দিই প্রত্যেকে বেরোতে শুরু করে তখনই তাদের গায়ে আগুন লেগে যায়।”

 রামপুরহাটে বিজেপির বিধায়ক ধ্রুব সাহা জানিয়েছেন, “হোটেলে আগন নেভানোর ব্যবস্থা ঠিকঠাক ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে। এভাবে চলতে পারেনা, মানুষের জীবনের দায় নেবে কে চতুর্দিকে জতুগৃহ বানিয়ে রেখেছে।”

তারাপীঠের একটি বেসরকারী হোটেলে আগুন। আগুণে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু তিন আবাসিকের। দগ্ধ হয়েছেন আরও কয়েকজন আবাসিক। তারাপীঠ থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুকুরের ধারে বিদিশিনি নামে একটি হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন দমকল বাহিনীর কর্মীরা। আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ধরে থাকতে পারে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তারাপীঠ ও রামপুরহাট থানার পুলিশ।

এই ঘটনায় হোটেল মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  দমকল প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন,  পুরো ঘটনার খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।