প্রথম বার কেন্দ্রের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে সরকারি ভাবে অংশ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সারা রাজ্যে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ থেকে শুরু করে তিরঙ্গা র্যালি, পদযাত্রা, আলোকসজ্জা এবং একাধিক দেশাত্মবোধক কর্মসূচির আয়োজনের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নেশন ফার্স্ট বা দেশ সর্বাগ্রে— এই আদর্শকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার কেন্দ্রের এই কর্মসূচিতে শামিল হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৫ অগাস্ট থেকেই জাতীয় পতাকা বিতরণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের ২২টি জেলা, কলকাতা পুরসভা, সাতটি পুরনিগম, ৪৩টি মহকুমা, ৩৪২টি ব্লক এবং ১২১টি পুরসভায় ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সংস্থা, সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয় ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নবান্ন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৪ অগাস্ট দুপুর ৩টেয় কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশ থেকে একটি বিশাল তিরঙ্গা র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। র্যালিতে মন্ত্রিসভার সদস্য, মুখ্যসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা অংশ নেবেন। অন্তত ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতির আশা করছে সরকার। ইতিমধ্যেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।
রাজ্য জুড়ে দেশাত্মবোধক গান, প্রবন্ধ, কুইজ, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতামূলক পদযাত্রার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পতাকার রঙে আলোকিত করা হবে। ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্প সংস্থা, হোটেল ও শপিং মলগুলিকেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া, ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে ৭ অগাস্ট সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত একটি পৃথক তিরঙ্গা যাত্রারও আয়োজন করেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেটি সরকারের কর্মসূচি নয়, বিধায়ক হিসেবে নাগরিকদের নিয়ে আয়োজিত একটি অরাজনৈতিক উদ্যোগ।
















