রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Prashanta Bandyopadhyay) সঙ্গে বসে গল্প করেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (Ashis Banerjee)। স্বাধীনতা দিবসেও সকাল থেকে দীর্ঘ সময় দলীয় কার্যালয়েই ছিলেন তিনি। পরিবারের তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। কিন্তু রবিবার সকালে সেই দলীয় কার্যালয় থেকেই প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতার দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় রামপুরহাটে। বীরভূমের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় বাড়ি সংলগ্ন ওই কার্যালয় থেকে দেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সেখান থেকেই একটি চিঠি উদ্ধার হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
সকালের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে প্রশান্তবাবু জানান, দলীয় কার্যালয়ের দরজা সামান্য ফাঁক ছিল। সেখান দিয়ে ভিতরে তাকিয়ে প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, দাদা সম্ভবত প্রণাম করছেন। পরে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় পরিবারের অন্য সদস্যদের ডাকেন তিনি। দরজা খুলে পরিস্থিতি জানার পর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। আগের রাতের কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে প্রশান্তবাবু বলেন, "আমার সঙ্গে গতকাল রাত প্রায় ১২টা নাগাদ দেখা হয়েছিল। প্রতিদিন পৌনে বারোটা পর্যন্ত আমরা বসতাম। সব গল্প করতাম। বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলতাম। কালকে স্বাভাবিকই ছিল দাদা। ১৫ অগাস্ট বলে সারাদিন অফিসে বসেছিল, পতাকা উত্তোলন করল। সারাদিনটাই কাল অফিসে কাটিয়েছে। নানা রকম লোক আসছিল যাচ্ছিল, তাদের সঙ্গে গল্প করেছে।"
আশিসবাবু মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কি না, সেই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন তাঁর ভাই। প্রশান্তবাবুর দাবি, পরিবারের কাউকেই এমন কোনও সমস্যার কথা জানাননি আশিসবাবু। তাঁর কথায়, "সেরকম কিছু কোনওদিন বোঝা যায়নি। এবার ভিতরে কোনও আঘাত ছিল হয়তো বা কোনও কিছুতে কষ্ট পাচ্ছিলেন। সেটা তো আর বহিঃপ্রকাশ করতেন না কারোর কাছে। হাসিমুখেই থাকতেন।" এদিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিতে নিজের রাজনৈতিক এবং শিক্ষকতা জীবনের নানা দিক তুলে ধরেছেন আশিসবাবু বলে জানা গিয়েছে। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনও আর্থিক দুর্নীতিতে যুক্ত না থাকার দাবি করেছেন তিনি। তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনা নিয়েও চিঠিতে ক্ষোভের কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর রামপুরহাটে (Rampurhat) শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া চিঠির বিষয়বস্তু, তাঁর শেষ সময়ের গতিবিধি-সহ একাধিক দিক তদন্তের আওতায় রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই গোটা ঘটনার বিষয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।
















