এজলাসে রায় শোনার পর বিচারপতির উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ও অশালীন শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে আইনজীবী ফিরদৌস সামিমকে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি আদালত অবমাননার মামলা রুজু করা হবে না, তা নিয়ে সাত দিনের মধ্যে লিখিত কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিচারপতির এজলাসে লাইভ শুনানির সময় সরাসরি ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিতে হবে ফিরদৌসকে। অন্যথায় কড়া আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে।

সম্প্রতি আদালতের একটি মামলার শুনানি চলাকালীন আইনজীবী ফিরদৌস সামিমের কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ও আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, রায় পছন্দ না হওয়ায় বিচারকের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা প্রয়োগ করেছিলেন ওই আইনজীবী। বিষয়টি নজরে আসতেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয় হাইকোর্ট।

ডিভিশন বেঞ্চ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে এই ধরণের মানহানিকর ও অশালীন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়া বিচার বিভাগের মতো একটি সুসংহত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে। কোনও ব্যক্তিকেই এমন মন্তব্য করার অনুমতি দেওয়া যায় না যা আদালতের বিচারককে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়। আদালতের মতে, সাধারণ মানুষের চেয়ে একজন পেশাদার আইনজীবীর দায়বদ্ধতা অনেক বেশি, তাই তাঁর কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ আরও বেশি গুরুতর ও অনুচিত। এই বক্তব্য কেবল একজন নির্দিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে নয়, বরং গোটা বিচার ব্যবস্থার অবমাননা বলেই মনে করছে বেঞ্চ।

ঘটনাটির তীব্রতা বিবেচনা করে ১৯৭১ সালের আদালত অবমাননা আইনের ২(গ) ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ফৌজদারি অবমাননার মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি লাইভ শুনানিতে ক্ষমা না চাইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মত আইনি মহলের। অতীতেও নানা ব্যক্তিগত ইস্যুতে নাম জড়ালেও এবার আদালতের কড়া নজরদারিতে ওই আইনজীবী কীভাবে আইনি জটিলতা সামলান, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।