কলকাতা ও হাওড়া— রাজ্যের দুই বৃহৎ পুরনিগমেই নির্বাচিত পৌর প্রতিনিধিদের সংখ্যা বাড়ানোর পথে এগোল রাজ্য সরকার। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট, ১৯৮০ এবং হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট, ১৯৮০ সংশোধনের জন্য পৃথক সংশোধনী বিল প্রকাশিত হয়েছে সরকারি গেজেটে। দুই ক্ষেত্রেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচিত কাউন্সিলরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভায় নির্বাচিত কাউন্সিলরের সংখ্যা বর্তমান ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলিতেও ১৪৪-এর পরিবর্তে ২০৯ কাউন্সিলরের উল্লেখ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংখ্যা, বসবাসের ধরন, ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং কর্পোরেশনের আর্থিক বিষয় বিবেচনায় রেখেই এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, হাওড়া পুরসভাতেও নির্বাচিত কাউন্সিলরের সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। ৭ অগস্ট প্রকাশিত দ্য হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬-এ হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট, ১৯৮০-এর ৫ নম্বর ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সেখানে বর্তমান ‘ফিফটি ইলেক্টেড কাউন্সিলরস’-এর পরিবর্তে ‘সিক্সটি-এইট ইলেক্টেড কাউন্সিলরস’ বসানোর কথা বলা হয়েছে। উপধারাগুলিতেও একই সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।
হাওড়ার ক্ষেত্রেও সরকারের যুক্তি, ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংখ্যা, বসতিপূর্ণ এলাকার চরিত্র, ভৌগোলিক অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আর্থিক বিষয় বিবেচনায় রেখে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
দুই পুরসভার ক্ষেত্রেই সংশোধনী বিল গেজেটে প্রকাশিত হলেও আইন কার্যকর হওয়ার দিন এখনও নির্ধারিত হয়নি। গেজেটে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাজ্য সরকার পরবর্তী সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যে দিন ঘোষণা করবে, সেই দিন থেকেই সংশোধিত আইন কার্যকর হবে।
ফলে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কলকাতা ও হাওড়া— দুই পুরনিগমেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং জনপ্রতিনিধির সংখ্যা বৃদ্ধির পথ কার্যত প্রশস্ত হল। সংশোধনী বিলগুলি আইনে পরিণত হয়ে কার্যকর হলে নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতেই আগামী পুরভোট আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
















