পুজোর আনন্দের মধ্যেই জলপথে যাতায়াত নিয়ে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হল হাওড়া ও কলকাতার যাত্রীদের মধ্যে। বকেয়া বেতন এবং উৎসবের বোনাস না মেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির পথে হাঁটলেন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির (Hooghly River Waterway Transport Cooperative Society) কর্মীরা। বুধবার দুপুর থেকে হাওড়া, হুগলিও উত্তর ২৪ পরগণা মিলিয়ে প্রায় ১৪টি ঘাটে বন্ধ হয়ে যায় ফেরি (Ferry) চলাচল। এর জেরে চতুর্থীর দিন থেকেই সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে পুজো দেখতে কলকাতায় আসা সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন: পুজোর মুখে ইন্দো- নেপাল সীমান্তে কড়া নজরদারি, পরিদর্শনে আইজি

কর্মীদের অভিযোগ, গত দু’মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার উপর পুজোর আগে বোনাস না মেলায় আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেলে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন ফেরিঘাটে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বুধবার থেকে পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন কর্মীরা। ২৬০ জন কর্মী কাজ করেন। তাঁদের বক্তব্য, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। 

হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির অধীনে প্রায় ২৫০ জন কর্মী রয়েছেন। হাওড়া থেকে গোলাবাড়ি, শোভাবাজার, বাগবাজার, চাঁদপাল, আর্মানি ঘাট ও প্রিন্সেপ ঘাট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফেরি চালানোর দায়িত্ব তাঁদের উপর। পাশাপাশি বাউড়িয়া ও নুরপুরের জলপথেও পরিষেবা পরিচালিত হয়। প্রতিদিন বহু মানুষ এই ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত করেন। ফলে ফেরি বন্ধ থাকায় বিকল্প পরিবহণের উপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের সময় ও খরচ—দু’টিই বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: পুজোর আগে রেলকর্মীদের বড় উপহার, ৭৮ দিনের বোনাস ঘোষণা কেন্দ্রের

বিক্ষোভকারী কর্মীদের দাবি, দুর্গাপুজোর সময় ঘাটগুলিতে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে টিকিট বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, এই সময় ১৪টি ঘাট থেকে কয়েক লক্ষ টাকা আয় হওয়া সম্ভব। সেই অর্থ থেকে কর্মীদের বকেয়া মেটানোর ব্যবস্থা করা যেত বলে তাঁদের মত। কিন্তু বেতন ও বোনাসের সমস্যা মেটেনি। উল্লেখ্য, সমিতিতে নির্বাচিত পরিচালন পর্ষদ না থাকায় বর্তমানে হাওড়া জেলা সমবায় দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার অফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি (এআরসিএস) প্রশাসকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। 

অন্যদিকে, সমিতির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এক পদস্থ আধিকারিক মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট, রাজ্য পরিবহণ দফতর ও জেলা পরিষদকে সমিতির প্রাপ্য ভাড়া বাবদ উল্লেখযোগ্য অর্থ মেটাতে হয়। তাঁর বক্তব্য, সেই আর্থিক দায় মেটানোর পর কর্মীদের বেতন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে পুজোর বোনাস নিয়ে তখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার ফেরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের তরফে নতুন কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অবিলম্বে ফেরি সার্ভিস  স্বাভাবিক করার জন্য কর্মীদের কাছে আবেদন করা হয়েছে। পুজোর মরসুমে কবে ফের স্বাভাবিক হবে জলপথে যাতায়াত, এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে।