আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজ (Medical College) তৈরির কাজ শুরুর আগেই বাধার মুখে জেলা প্রশাসন। মেডিক্যাল কলেজের জন্য চিহ্নিত জমি মাপতে গিয়ে বুধবার মাঝের ডাবরী চা বাগানের (Tea Garden) শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন সরকারি আধিকারিকরা। শেষ পর্যন্ত জমি জরিপের কাজ বন্ধ রেখেই ফিরে যেতে হয় তাঁদের। চা বাগানের জমি নষ্ট করে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন: টয়ট্রেনের পাশে রিলস বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা! কড়া পদক্ষেপ দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের

আলিপুরদুয়ারে প্রায় ৩০ একর জমির উপর মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা করেছে জেলা প্রশাসন। সেই লক্ষ্যে শহর সংলগ্ন একাধিক জায়গা খতিয়ে দেখার পর দমনপুরের মাঝের ডাবরী চা বাগানের জমি চূড়ান্ত করা হয় বলে খবর। বুধবার সেই জমি মাপজোক করতে যান সরকারি আধিকারিকরা। কিন্তু কাজ শুরু করতেই তাঁদের বাধা দেন চা বাগানের শ্রমিকরা। তাঁদের বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে যায় জমি জরিপের কাজ। শ্রমিকদের বক্তব্য, চা বাগানের জমি অধিগ্রহণ করে একের পর এক নির্মাণকাজ হলে ভবিষ্যতে বাগানটির অস্তিত্বই বিপন্ন হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে মাঝের ডাবরী চা বাগানের বিস্তীর্ণ জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এইভাবে একের পর এক বাগানের জমিতে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হলে চা চাষের পরিসর আরও কমে যাবে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

চা বাগানের জমি কমতে থাকলে ভবিষ্যতে বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। তাতে কর্মসংস্থান হারানোর ভয় রয়েছে তাঁদের। সেই আশঙ্কা থেকেই মেডিক্যাল কলেজের জন্য জমি মাপজোকের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ঘটনার খবর পেয়ে মাঝের ডাবরী চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার চিন্ময় ধর ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কিন্তু শ্রমিকরা তাঁকেও ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। পরে বাগানের ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়ে শ্রমিকদের একটি দল জেলা শাসকের দফতরে যায়। সেখানে জেলা শাসকের হাতে নিজেদের আপত্তি জানিয়ে লিখিত স্মারকলিপি তুলে দেন তাঁরা। এই ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠছে তবে কি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির জন্য জেলা প্রশাসন সঠিক পরিকল্পনা না করেই কাজে হাত দিতে গিয়েছিল? তবে এই নিয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে মেলেনি কোন প্রতিক্রিয়া।