রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব রাজনৈতিক দলের এক মঞ্চে আসার বার্তা দিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Trinamool MLA Kunal Ghosh)। “চোখ খুলে দেখুন, আমরাও এখানেই দাঁড়িয়ে আছি”—যৌনকর্মী-সহ সমাজের প্রান্তিক মহিলাদের লড়াই ও অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানালেন দীপ্সিতা ধর (Dipsita Dhar)। দুর্বার মহিলা দুর্গোৎসব কমিটির (Durbar Mahila Durgotsav Committee) পুজো উদ্বোধনে উপস্থিত হয়ে দু’জনেই তুলে ধরলেন সামাজিক সম্মান, অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গ।
আরও পড়ুন: রাজ্যে দুর্গাপুজোর সংখ্যা ছাড়াল ৫৮ হাজার, নতুন করে অনুমোদন আরও ৮০০ ক্লাবকে
দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, নিজের সাধ্যমতো তিনি বরাবরই সংগঠনের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। অতীতে ‘ভিআইপি’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানের নামকরণের পিছনেও ছিল বিশেষ ভাবনা। কুণাল জানান, এখানে ভিআইপি বলতে প্রচলিত অর্থে কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝানো হয়নি। বরং সমাজের এমন সব শ্রমজীবী মানুষ, যাঁরা প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে চলেছেন অথচ যথাযথ স্বীকৃতি পান না, তাঁদেরই ভিআইপি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তাঁরা। সেই কারণেই চকচকে স্টুডিওর সেট তৈরি করে তাঁদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হতো, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও কাজের কথা।
আরও পড়ুন: "কেন দেশ বরবাদ করছেন", কটাক্ষ উড়িয়ে থাম্বস-আপ দেখিয়ে বেরিয়ে গেলেন দীপকে
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, যৌনকর্মীদের ঘিরে সমাজে যে দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা বদলানো জরুরি। যাঁরা যৌনকর্মী এবং যারা তাঁদের এই পথে পাঠিয়েছে তাঁদের নিয়ে আলোচনা না করে বরং মহিলাদেরই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এই মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁর মতে, রাজনীতি নিজস্ব জায়গায় থাকলেও সমাজের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিভাজন সরিয়ে রাখা উচিত। সব রাজনৈতিক দলের মানুষ যদি এক মঞ্চে এসে প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সংশ্লিষ্ট সমাজ ও এলাকার মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। দুর্বার মহিলা দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও নিজের সাধ্যমতো পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: চা বাগানের জমিতে মেডিক্যাল কলেজ নয়! শ্রমিকদের বিক্ষোভে বন্ধ জমি জরিপের কাজ
অন্যদিকে দীপ্সিতা ধর বলেন, “চোখ খুলে দেখুন, আমরাও এখানেই দাঁড়িয়ে আছি।” রাস্তায় গলির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমজীবী মহিলাদেরও সমাজের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। যাঁরা প্রতিদিন জীবনধারণের জন্য লড়াই করছেন, তাঁদের উপেক্ষা না করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। উল্লেখ্য, দুর্বার মহিলা দুর্গোৎসব কমিটির এই পুজো শুধু যৌনকর্মীদের নয়, সমাজের খেটে খাওয়া, প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষেরও উৎসব। এ বছর ১৪তম বর্ষে পদার্পণ করেছে এই দুর্গোৎসব। তবে পুজোর সূচনাপর্ব সহজ ছিল না। দুর্গাপুজো আয়োজনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে একসময় আইনি লড়াইও লড়তে হয়েছিল উদ্যোক্তাদের। সেই বাধা পেরিয়ে আজ এই উৎসব সামাজিক মর্যাদা, অধিকার ও ঐক্যের বার্তা বহন করছে।















