কলকাতা হাইকোর্টে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে গিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। নারকেলডাঙা ও বেলেঘাটা এলাকার একাধিক বেআইনি নির্মাণ এবং তার আড়ালে চলা আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে সিবিআইয়ের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু ভর্ৎসনা করাই নয়, জমা দেওয়া প্রাথমিক রিপোর্টটি সরাসরি ফিরিয়ে দিয়ে নিয়মানুযায়ী তা পেশ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার শুনানিপর্বে সিবিআই আদালতের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করে তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানের মাত্র একটি কপি ডিভিশন বেঞ্চে পেশ করে। তা দেখেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে। সিবিআইয়ের মতো অভিজ্ঞ ও কেন্দ্রীয় স্তরের তদন্তকারী সংস্থার এমন দায়সারা মনোভাব ও অসচেতনতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত সরাসরি প্রশ্ন তোলে, ডিভিশন বেঞ্চে যে দু’জন বিচারপতি থাকেন, তা কি সিবিআই জানে না? নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রতিলিপি জমা না দেওয়ায় তদন্তকারী সংস্থার আনা সেই রিপোর্টটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তা এজলাস থেকেই ফেরত পাঠায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
আদালত সাফ জানিয়েছে, বিচারব্যবস্থার প্রশাসনিক প্রোটোকল মেনে সঠিক নিয়মে নথি ও রিপোর্ট পেশ করতে হবে। আগামী ডিসেম্বর মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। সেই শুনানির সময়ে সমস্ত আইনি বিধি মেনে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই নজিরবিহীন কড়া প্রতিক্রিয়ার পর কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে গাফিলতি ও সচেতনতার অভাব নিয়ে আদালতের অন্দরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজাবাজার, বেলেঘাটা, মানিকতলা ও ক্যানেল ইস্ট রোড সংলগ্ন এলাকায় ৫০টিরও বেশি বেআইনি বহুতল নির্মাণের অভিযোগের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী নারকেলডাঙা ও আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকার অন্তত ৫৫টি বেআইনি নির্মাণ ও ফ্ল্যাটের বৈধ কাগজপত্রের তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছে সিবিআই। একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার কাছেও চিহ্নিত ৪২টি বেআইনি নির্মাণের যাবতীয় নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। সেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি জানাতে এসেই নিয়মভঙ্গের কারণে এজলাসে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল কেন্দ্রীয় সংস্থাকে।















