পঞ্চায়েত বোর্ডের অন্দরে দীর্ঘ দিন ধরে চলা ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত আছড়ে পড়ল প্রকাশ্য অনাস্থায়। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার ব্লকের ৫ নম্বর পতিরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে নিজেদের নির্বাচিত প্রধানের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা। প্রধান মাধবী রায় বর্মনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, একনায়কতন্ত্র ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে দলের ১৫ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন।
২৩টি আসন বিশিষ্ট পতিরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৬ জন সদস্যের সমর্থন নিয়ে বোর্ড গঠন করেছিল বিজেপি। তবে বোর্ড গঠনের পর থেকেই দলীয় ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। ক্ষুব্ধ সদস্যদের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের কোনো উন্নয়নমূলক বা প্রশাসনিক কাজে কাউকেই গুরুত্ব দিতেন না প্রধান। সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেমতো ও একতরফা ভাবে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন তিনি। সাধারণ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে নিজের স্বার্থসিদ্ধিতে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তুলেও সরব হয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্যরা।
পরিস্থিতি চরমে পৌঁছলে ক্ষুব্ধ সদস্যরা ইতিপূর্বে ইটাহারের বিডিও-র কাছে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। বিষয়টি পরে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের নির্দেশ মেনে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অনাস্থা সংক্রান্ত বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। তলবি সভায় স্বয়ং প্রধান কিংবা বিরোধী শিবিরের কোনো সদস্য হাজির না থাকলেও বিজেপির বিক্ষুব্ধ ১৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের এই উপস্থিতি দলীয় বোর্ডের অন্দরের গভীর ফাটলকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে।
অনাস্থা সভাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য পঞ্চায়েত চত্বরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ইটাহার থানার আইসি গৌতম চৌধুরীর নেতৃত্বে পঞ্চায়েত ভবন ঘিরে রেখেছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। কোনো অশান্তি ছাড়াই শেষ পর্যন্ত সভার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, পঞ্চায়েতের মেয়াদ চলাকালীন নিজেদের প্রধানের বিরুদ্ধেই দলীয় সদস্যদের এই প্রকাশ্য অনাস্থা এলাকায় গেরুয়া শিবিরের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অন্তর্কলহকেই নতুন করে প্রকাশ্যে এনে দিল।















