সীমান্তপারের সন্দেহজনক লেনদেনের সূত্র ধরে কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ (Sahebganj, Cooch Behar) থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের STF। রশিদুল, নাসিরুদ্দিন ও শফিকুল (Rashidul, Nasiruddin, and Shafiqul) নামে ওই তিনজনকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে ভারতীয় মোবাইল সিম কার্ড (Indian mobile SIM card) বিদেশে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ। তাঁদের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারী সংস্থা। ফলে সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।

তদন্তে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন কৌশলে ভারতীয় সিম সংগ্রহ করে তা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত। সেখান থেকে সেই সিম অন্য পথে পাকিস্তান ও নেপালে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ। পাকিস্তানে (Pakistan) ভারতীয় নম্বরের সিম ব্যবহারের তথ্য সামনে আসার পরই এই নেটওয়ার্কের গতিবিধি নিয়ে নজরদারি শুরু করে STF। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই সিমগুলি সাধারণ যোগাযোগের কাজে নয়, অন্য কোনও উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

শুধু সিম পাচারেই এই চক্রের কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। জাল নোটের কারবার এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালানের সঙ্গে ধৃতদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সীমান্তের এপারে এবং ওপারে তাঁদের যোগাযোগ এবং এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

এর আগে হাবড়া থেকে পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফকে ISI-যোগের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানা গিয়েছে। রানা রউফ এবং তাঁর সহযোগী ইজাজকে জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে কোচবিহারের এই গ্রেফতারির সঙ্গে সীমান্তপারের গুপ্তচরচক্রের কোনও বৃহত্তর যোগ রয়েছে কি না, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।