যত দিন যাচ্ছে বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ বাড়ছে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের বেইমানদের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের ঢলাঢলি মানতে পারছেন না দলের নিচুতলার কর্মীরা। প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিয়ে বালিশ চাটা বিধায়ক ও সাংসদদের কীর্তিকলাপও তাঁরা ফাঁস করে দিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ বিজেপি নেতৃত্বের তৃণমূল-প্রীতি দেখে বিজেপির নিচুতলার নেতাকর্মীরা খেপে লাল। সরাসরি নেতৃত্বের দিকে আঙুল উঁচিয়েই তাঁদের প্রশ্ন, যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছি, যারা আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, আমাদের ঘরছাড়া করেছে, এখন তাদেরকে নিয়ে কেন এত ঢলাঢলি? কেন তাদেরকেই সামনের সারিতে রাখা হচ্ছে? আমরা কি এই দিন দেখার জন্যই পরিবর্তন এনেছিলাম?
লজ্জা লাগে বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে! বেইমানদের সঙ্গে সখ্যতায় ক্ষোভে ফুঁসছে নিচুতলা
Sponsored

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে পরিত্যক্ত ইটভাটায় উদ্ধার বিপুল পরিমাণ টাকা! ঘনাচ্ছে রহস্য
সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া তৃণমূলের বিশ্বাসঘাতক সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন। হাসিমুখে ছবিও তোলেন তাঁরা। এরপরই জনৈক বিজেপি কর্মী বিশ্বজিৎ দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, এই পার্থ ভৌমিকের অঙ্গুলিহেলনে ২০২১-এ আমার বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল। আজ দেখুন সেই পার্থ ভৌমিক শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করছেন, হাসিমুখে ছবি তুলছেন ভোটে হেরে। আমি একজন সাধারণ বিজেপি কর্মী। এরপর মানুষকে কী বলব? দলীয় নেতৃত্বের এই আচরণ সমর্থনযোগ্য নয়। বিজেপি করি বলতেই লজ্জা লাগছে। বিশ্বজিৎ দাসের মতো এমন অজস্র বিজেপি কর্মী নেতৃত্বের প্রতি ক্ষুব্ধ। প্রকাশ্যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। তারপরও সার্থসিদ্ধির জন্য বিজেপি নেতৃত্ব ও তৃণমূলের বেইমানরা সাধারণ কর্মীদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।
অসন্তোষের এই ছবি শুধু এই স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজেপির প্রোটেকশনে তৃণমূলের বেইমান বিধায়করা এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছে। রাতের অন্ধকারে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তৃণমূলের বেইমান বিধায়কদের একজন প্রসূন বন্দোপাধ্যায় পঞ্চায়েতের উন্নয়নের নামে বিডিও-র চেয়ারে বসে বৈঠক করছেন। এটাই এখন বিজেপির বাংলার চিত্র হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপির নিচু তলায় যেমন ক্ষোভ বাড়ছে দলের প্রতি, তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও চরম ক্ষুব্ধ। তাঁরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। জনৈক সাগর রাহি বিধায়কের উদ্দেশ্যে কটাক্ষের সুরে বলেছেন রাতের অন্ধকারে উন্নয়নের নামে বৈঠক করে সেই ছবি আবার ফেসবুকে পোস্ট করছেন বিধায়ক, লজ্জা।
আসলে এইসব বেইমানদের এখন কর্মীদের মুখোমুখি হওয়ার মতো সৎ সাহস নেই। দল হারতেই নিজেদের প্রোটেকশন নিতে বিজেপির পায়ে পড়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের নিচুতলার কর্মী ও সমর্থকরা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে যেমন অনেককে নিজেদের দিকে টেনেছে বিজেপি, অনেকে গা বাঁচাতে ভিড়েছেন সেই দলে। তৃণমূলের প্রশ্ন, যাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করে জিতিয়েছেন, তারা স্বার্থের জন্য বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। এই বেইমানি তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা মেনে নেবেন না। নিচুতলার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এখন বিজেপি নেতাদের সঙ্গে এই গোপন সখ্যতার জবাব দিতে তৈরি কর্মীরা। সেই কারণেই এলাকায় ঢুকতে বেইমানদের ভয়, রাতের অন্ধকারকে বেছে নিতে হচ্ছে বৈঠক করার জন্য। কেননা তাঁরা ভালোমতো জানেন, বিজেপির সঙ্গে সমঝোতাকে সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা ভালোভাবে নিচ্ছেন না।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from রাজ্য
View All →
পরিষদীয় বা সংসদীয় দলের সংখ্যা নয়, দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা: সুপ্রিম কোর্ট
14h ago

১৭ অগাস্ট মিলবে অন্নপূর্ণার কিস্তি, বিভ্রান্তিতে কান না দেওয়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
14h ago

বিল ছাড়ের 'ঘুষ' ২ লক্ষ টাকা! ACB-র জালে সরকারি কর্মী
14h ago

মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বাঁচল শিশুদের রূপকথার জগৎ, বন্ধ হচ্ছে না নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম
15h ago

‘বাংলার বাড়ি’ Out, ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ In: উপভোক্তাদের রং-ধর্ম দেখব না, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
16h ago







