তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) রক্ষকবচের মেয়াদ বাড়ল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে মঙ্গলবার নির্দেশ দিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ। ২৫ অগাস্ট অভিষেকের বিভিন্ন FIR-এর মামলার রায় দেবে এই সিঙ্গল বেঞ্চ। তৃণমূল সাংসদের প্রভাবশালী হওয়ার তত্ত্ব উড়িয়ে বিচারপতি পাল্টা বলেন, "উনি যদি এতই প্রভাবশালী হবেন, তাহলে আমতলায় ওঁর অফিস কেন ভাঙা হল? আদালতকে কেন হস্তক্ষেপ করতে হল'?" 

সোমবারই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এ দিকে মঙ্গলবার আবার অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হাওয়া ১৬টি মামলা ওঠে কলকাতা হাই কোর্টে। তার মধ্যে ১৩টি মামলায় আগেই রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন অভিষেক। বাকি তিনটির জন্য রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেকের আইনজীবী। 

এদিন রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন এডিশনাল সলিসেটর এস ভি রাজু। অভিষেকের এই আবেদনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, "আগাম জামিন চাওয়া উচিৎ ছিল। এই মামলার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই"। এর জবাবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, "যদি অন্তর্বতী নির্দেশ বা রক্ষাকবচ না দেওয়া হয় তাহলে এর আগে ডিজে বাজানোর জন্য যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে সেটা অর্থহীন হয়ে যায়।" 

এক অভিযোগকারীর হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, একটি বিধানসভায় ৭ লক্ষ ভোটে জিতেছেন অথচ সেই বিধানসভায় সাত লক্ষ ভোটার নেই। এখন জেলে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন কারণ অনেকেই ভয় পাবেন এবং অভিযোগ করতে চাইবেন না।

সেই অভিযোগ উড়িয়ে মোক্ষম প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, "উনি যদি এতটাই প্রভাবশালী হন তাহলে আমতলায় ওনার অফিস কেন ভাঙা হল? আদালতকে কেন হস্তক্ষেপ করতে হল?" বিচারপতির কথায়, "এখন পরিস্থিতি বদলেছে। রাজনৈতিক পটভূমি না বদলালে আপনারা এটা কি করতে পারতেন? আমাদের উচিৎ নয় বাস্তব অস্বীকার করা।" 

এর পরেই বিচারপতি বলেন, "৪ মের আগে কাস্টাডিয়াল জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারতেন। FIR দেরি করে হলে আদালত নিশ্চিত হস্তক্ষেপ করবে। এখন মামলাকারীর উপরেই আক্রমণ হয়েছে। তাঁকে যদি সহযোগিতার কথা বলা হয় সমস্যা কোথায়?" মামলাকারী সিবিআই-কে প্রশ্ন বিচারপতির। তিনি সরাসরি বলেন, “এই এফআইআর কে করেছেন? যিনি অভিষেকের কাছে দু’বার নির্বাচনে হেরেছেন? এফআইআর-এর পিছনে পরিস্থিতি এবং অভিযোগের সময়কাল নিয়েও বিবেচনা করা উচিত।” 

বিচারপতি বলেন, “অভিষেকের আবেদন মোতাবেক আদালত এখনই কোনও এফআইআর খারিজ করছে না। পুলিশ তদন্ত করুক। অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ।” বিচারপতি জানান, এখনই চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেবে।