গ্রেফতারির হাত থেকে বাঁচতেই দলের একাংশ বিজেপির শরণাপন্ন হচ্ছেন! এমনই অভিযোগ তুলে পদ্মশিবির ও তৃণমূলত্যাগী নেতাদের বিঁধলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনি প্যাঁচ থেকে নিষ্কৃতি পেতেই এই ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করা হচ্ছে। এখানেই না-থেমে, বিজেপির পুরনো ও কট্টর কর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানানোর ভঙ্গিতে তীব্র কটাক্ষ শাণিয়েছেন তিনি। কুণালের সাফ বক্তব্য, যে সব ‘গদ্দার’দের সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ছবি বেরোচ্ছে, তা দেখে রাজ্য বিজেপির নিচু তলার কর্মীদের করুণ অবস্থা স্পষ্ট।
শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একাধিক তৃণমূলত্যাগী বিধায়ক ও সাংসদকে নিশানা করেন কুণাল। তাঁর কথায়, “ভালো তৃণমূল কনসেপ্টটাই অধিকাংশের ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে গ্রেফতার এড়িয়ে যাওয়ার তাগিদ থেকে। আমি অবশ্য সকলের কথা বলছি না। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে বিজেপি একদা ভুরি ভুরি অভিযোগ আনত, তারাই যদি এখন দিল্লিতে বা বাংলায় আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে ঘুরে বেড়ান, তবে সে প্রশ্ন তো উঠবেই।”
বিজেপিতে নবাগত নেতাদের দাপট এবং পুরনোদের গুরুত্বহীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে কুণাল আরও বলেন, “তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া যাদের একদা গদ্দার বা বেইমান বলা হতো, তাঁদের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের প্রকাশ্য ছবি বেরোচ্ছে। এতে তৃণমূল কর্মীদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে অসুবিধা হয় না। তবে তার চেয়েও বেশি কৌতূহল জাগে, বিজেপির নিজস্ব কর্মী-সমর্থকদের কেমন লাগছে?”
রাজ্য বিজেপির শীর্ষ পদাধিকারীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল যোগ করেন, “এই রাজ্যের অর্ধেক বড় বিজেপি নেতাও কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে চা খাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন? পাননি। অথচ দল বদলে যাওয়া এই তথাকথিত গদ্দাররাই সোজা গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চায়ের টেবিলে বসছেন! আজ তাঁদেরকেই নেতা মেনে বিজেপি করতে হচ্ছে পুরনো কর্মীদের। ওদের এই রাজনৈতিক দশা দেখে সত্যই হাসি পাচ্ছে।”
















