রাজ্যের জোড়া অগ্নিকাণ্ডের পরে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে কাঠগড়ায় তুললেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর কথায়, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে অগ্নিনির্বাপণ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এবং পরবর্তীতে প্রধান সচিব পদে ছিলেন মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal)। সুতরাং এই নিয়ে রাজ্য সরকার সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। সিটের অবিলম্বে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে জেরা করা উচিত বলেই দাবি করেছেন তৃণমূল বিধায়কের।

একের পর এক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের জেরে রাজ্যে মৃত্যুমিছিল। এই নিয়ে রাজ্য সরকার সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও পরিকাঠামোগত ত্রুটি খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। এই দলে পুরসভার লাইসেন্স বিভাগের পাশাপাশি কেএমডিএ, কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ, রাজ্য দমকল বাহিনী এবং সিইএসসি-র প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২৫ অগাস্ট থেকে ১৬টি বরোর অধীনে থাকা সমস্ত বাণিজ্যিক ভবনগুলির ট্রেড লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মেয়াদ খতিয়ে দেখতে মাঠে নামবে সিট।

সেই সিটের অবিলম্বে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিবকে জেরা করা উচিত বলেই দাবি করেছেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কুণাল বলেন, “আমরা বলছি না ওনার কোনও - দোষত্রুটি আছে। কিন্তু সিটের উচিত ওনাকে জেরা করে তদন্ত শুরু করা। কারণ, আজকের মুখ্যসচিবই ২০২০ সাল থেকে দমকল ও অগ্নিনির্বাপণ দফতরের সচিব পদে ছিলেন! হ প্রথমে তিনি অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি পদে ছিলেন। পরে ওই দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিও হন। '২৪ সাল পর্যন্ত এ তিনি ওই পদে ছিলেন। ফলে কোথায় কী এ হয়েছে, কতটা হয়েছে, কী করা যায়নি সবটাই উনি জানেন। তাই ওনাকে জেরা করেই তদন্ত এ শুরু করা উচিত।“

এর পরে প্রাক্তন মেয়র সম্পর্কে কুণাল বলেন, “এরপর আমাদের প্রাক্তন মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে জেরা করা দরকার। এরপর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুরসভা বা দফতরের তরফে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদেরও জেরা করা দরকার।“

কুণালের কথায়, "প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পর একটু শোরগোল হয়, আর তার কিছু দিন বাদে নতুন কোনও ইস্যু এলে আগের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার।" 

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর প্রশাসনিক সক্রিয়তার যে পুনরাবৃত্তি দেখা যায়, তার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকরিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর মতে, মনোজ আগরওয়াল দীর্ঘ সময় ধরে এই দফতর পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় কোথায় গাফিলতি ছিল, কার কী কাজ করার কথা ছিল—তা তাঁর চেয়ে ভাল কেউ বলতে পারবেন না। ফলে অভিজ্ঞতার দিক থেকে সিট তাঁর সঙ্গে কথা বললে তদন্ত সঠিক দিশা পাবে বলেই মনে করেন তিনি।