হালিশহর থানার পুলিশ লকআপে মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের বাড়ি যাওয়ার পথে হামলার মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর, ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর। রবিবার, দুপুরে মমতা যখন হালিশহরের ভূতবাগানে ওই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যান, তখন রাস্তায় তাঁর গাড়ির উপর হামলা চালানো হয়।
তৃণমূল সভানেত্রীর সঙ্গে থাকা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, “মমতাদির নিরাপত্তা না থাকলে আমরা মারা যেতাম। এটা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের ষড়যন্ত্র।“ তৃণমূল সভানেত্রীর অভিযোগ, “বিজেপি সন্ত্রাস চালাচ্ছে। কিছু লুম্পেন তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়েছে। অশ্রাব্য গালিগালাজ করেছে।“ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মমতা। পুলিশের সামনেই তাঁর গাড়ির উপর হামলা চলে বলে জানান মমতা। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি (BJP) বিধায়কের হুমকির ভয়ে পরিবারের লোকেরা বেরিয়ে তাঁর সঙ্গে কথাও বলতে পারেননি। মমতার সঙ্গে কল্যাণ ছাড়াও ছিলেন, দোলা সেন, উপাসনা চৌধুরী-সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব।
তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটকে থানায় নিয়ে গিয়ে অমানবিক অত্যাচার চালিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ, হাত-পা বেঁধে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। দেহে সেই বাঁধনের দাগ স্পষ্ট, কান থেকেও রক্ত বেরিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সেই ছবি প্রকাশ করে প্রতিবাদে সরব তৃণমূল। এদিন পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান দলনেত্রী মমতা। কিন্তু তাঁর গাড়ি ভূতবাগানে ঢুকতেই একদল লোক স্লোগান দিতে শুরু করে। এর পরেই মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এই অবস্থাতেও মৃতর বাড়ি পৌঁছে মিনিট দশেক পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তৃণমূল সুপ্রিমো। বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বিস্ফোরক অভিযোগ করে তিনি বলেন, "আমার তো মাথা ফেটে যেত! আমরা সবাই মরে যেতাম! পুলিশের সামনে এমন হামলা আমরা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় থেকে বিজেপিকেই সুরক্ষা দিচ্ছে।"
ঘটনায় ধিক্কার জানিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি গুন্ডাদের দিয়ে এই কাজ করেছে। তোপ দেগে মমতা বলেন, “নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।“
মমতার সঙ্গে থাকা কল্যাণ ও দোলাও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। কল্যাণ বলেন, “পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন পুলিশমন্ত্রী। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।“ তাঁর কথায়, “যে স্থানীয় আইসি মূল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত, তিনিই নিজে উদ্যোগ নিয়ে বাইরে থেকে বিজেপির লোকজনকে জোগাড় করেছেন। তারা আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অনবরত অশালীন গালিগালাজ করে এবং বড় বড় ইট ছুড়ে মারে। আপনারা গাড়িটির অবস্থা দেখলেই বুঝতে পারবেন—পুরো গাড়িতে ইট মারতে মারতেই আমাদের ধাওয়া করা হয়েছে। এটা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের চক্রান্ত।“
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তোপ দেগে বলেন, এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই। পুলিশের সামনেই তাঁর গাড়ির উপর হামলা চলেছে। পুলিশ নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে লুম্পেনদের দিয়ে হামলা চালিয়েছে। মমতার কথায়, "যা ঘটেছে, তার জন্য আমি স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই দায়ী মনে করি। এই ঘটনা যেভাবে ঘটেছে, তার জন্য পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্বকেও আমি দায়ী করছি। আমার মনে হয়, এটি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা। আমি দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়বিচারের দাবি চালিয়ে যাব।"
















