হালিশহরে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) গাড়ির উপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিধানসভায় প্রতিবাদ কর্মসূচি করে তৃণমূল। সেখানে মমতা-পন্থী বিধায়কদের পাশাপাশি ছিলেন ঋতব্রত-শিবিরের বিধায়ক মহম্মদ তৌসিফ রহমান, আবদুল খালেক মোল্লা ও বিধান সর্দার। প্রতিবাদ মিছিলের পরে সাংবাদিক বৈঠকে তৌসিফরা জানান, তৃণমূল সুপ্রিমোর উপর এই হামলা তাঁরা কোনও মতেই মেনে নেবেন না। তাঁদের একমাত্র পরিচয় তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ছবি ব্যবহার করে জিতে আসা বিধায়ক।

হালিশহরে থানা হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর (TMC Worker) পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘লুম্বেনদের’ হামলার মুখে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর-ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে হামলার প্রতিবাদে তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সোমবার প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন। বিধানসভা ছাড়াও কলকাতার বেশ কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল হয়। বিধানসভার বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূল বিধায়করা বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ঋতব্রত-শিবিরের বিধায়ক বলে পরিচিত তৌসিফ রহমান, আবদুল খালেক মোল্লারা। 

এর পরে সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandev Chatterjee) পাশে দেখা যায় বসিরহাটের বিধায়ক তউসিফ রহমান, মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আবদুল খালেক মোল্লা ও বারুইপুপ-পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দারকে। হামলার তীব্র প্রতিবাদ করে কুণাল বলেন, “যারা হামলা করেছে তাদের সরকার মদত দিচ্ছে। তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করত হবে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ভয় দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে থামানো যাবে না।”

এর পরেই এই তিন ঋতব্রত-শিবিরের বিধায়কদের কাছে প্রশ্ন ধেয়ে আসে। সাংবাদিকরা জানতে চান তাহলে কি এঁরা মমতা-শিবিরে ফিরছেন। তিন বিধায়ক উত্তর দেওয়ার আগে, কুণাল ঘোষ জানান, ”আমরা কোনও বিভাজন করি না। এই তিনজন ছাড়াও অনেকেই দলনেত্রীর উপর হামলার পরেই যোগাযোগ করেছেন। অনেক বাধ্যবাধকতায় হয়ত আসতে পারেননি, অনেকে আবার নিজের জায়গায় প্রতিবাদ দেখিয়েছেন।” 

তৌসিফ রহমান বলেন, “যেখানে দিদি সেখানে আমি। আমি বসিরহাটে ১০টা ভোট পাব না, যদি মমতার ছবি না থাকে। আমাদের ঋতব্রত শিবিরের তরফে বলা হয়েছিল মমতাদি চেয়ারম্যান হবেন। কিন্তু আজ হবে, কাল হবে করে আর হয়নি।”

বিভাস সর্দার বলেন, “আমাদের নেত্রীর উপর আঘাত হয়েছে। তীব্র প্রতিবাদ করছি। মমতার প্রতীকে জিতেছি। তৃণমূলের ৮০ জনেরই এর প্রতিবাদ করা উচিৎ।”

আবদুল খালেক মোল্লার কথায় বলেন, “নেত্রীর গাড়িতে আঘাতের প্রতিবাদ করছি। আমি ঋতব্রতপন্থী হতে পারি কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ করছি।”