তারাতলার নির্মীয়মান গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনা ছিল একপ্রকার ওয়ার্নিং! এবার রাজ্যে বহুতল নির্মাণ নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়া হল নবান্নর তরফে। বহুতল নির্মাণকাজে স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি তারাতলা দুর্ঘটনার তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী কমিটি পুনর্গঠন করা হল। নবান্ন সূত্রে খবর, পূর্ত দফতরের সচিব অন্তরা আচার্য তারাতলা দুর্ঘটনার তদন্তে গঠিত হওয়া এই ‘হাই লেভেল ইনকোয়ারি কমিটি’র চেয়ারপার্সন হলেন। এছাড়া এই কমিটিতে থাকছেন নগরোন্নয়ন, কলকাতা পুলিশ, কেএমসি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শ্রম দফতর, পিডব্লিউডি, দমকল, RITES, IRCON ও IIT খড়গপুরের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন: নাগরিকত্ব দিতেই CAA! ৩০০ মতুয়াকে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট দিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

জানা যাচ্ছে, বহুতল নির্মাণ নিয়েও নয়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বলা হয়েছে জি+৫ বা তার বেশি উচ্চতার বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজে স্থগিতাদেশের মেয়াদ ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন নির্মাণের নিরাপত্তা, গুণগত মান ও প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে৷ 

আরও পড়ুন: ফ্রি বাস চড়তে গেলে পিঙ্ক কার্ড বাধ্যতামূলক, একনজরে আবেদন পদ্ধতি

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন তারাতলার নির্মীয়মান গুদাম ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার কারণে ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে পড়েন বহু শ্রমিক। ২৫ জুন গঠিত কমিটিতে কি তবে গলদ ছিল, নাকি তদন্তের নামে এক অন্তহীন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জাল বুনে আসল অপরাধীদের আড়াল করার চোরাগোপ্তা চেষ্টা চলছে? সাইট ভেরিফিকেশন বা কারিগরি অডিটের নামে যে দীর্ঘসূত্রিতার আশ্রয় সরকার নিচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে, প্রশাসন চাইছে মানুষের স্মৃতি থেকে তারাতলার ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি ধীরে ধীরে মুছে যাক। প্রথমে স্থানীয়েরা উদ্ধারকাজ শুরু করলেও খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল। সরকারি মতে নিহত ১৬ জন শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।