মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল মঙ্গলবার। আজ, (শুক্রবার) সকাল ৮টা থেকে শুরু ভোটগণনা। ভোট গণনা শুরুর পর থেকে বিরোধীদের কয়েক কদম পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করে বিজেপি প্রার্থীরা। বেলা যত গড়াতে থাকে ততই লিডও বাড়ছে থাকে হাসিরানি-শাখারভের।

 

নন্দীগ্রাম বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, চার মাস আগে এই কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী জিতেছিলেন। তবে চমকে দেওয়ার মতো ফলাফল রেজিনগরে। ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যাসিত এলাকায় বিজেপির ভোট প্রাপ্তি বড় চমক। কয়েক মাস আগে ভোটে আসনেই জিতেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। সেই কেন্দ্রেই গেরুয়া ঝড়।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে পঞ্চম রাউন্ড গণনার শেষে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ৪১৫০০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে কংগ্রেস। রেজিনগরে পঞ্চম রাউন্ড গণনার পর বিজেপির শাখারভ সরকার ২৩,১৮৯ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

 লিড বাড়তেই উল্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।  শাখারভ সরকার জানিয়েছেন, 'সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু, এই সব কথা অতীত। এসব শুনে বাংলার মানুষ ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে। বাংলায় এখন একটাই ক্যাসেট বাজবে, এখানে উন্নয়ন চাই, রেজিনগরে কলেজ চাই, শিল্প চাই। সংখ্যালঘু মানুষরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান। যখন কংগ্রেসের সরকার ছিল, তখন তাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন। পরবর্তীকালে যখন বামেরা ক্ষমতায় এল, তখন তাঁরা বামেদের সঙ্গে ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুরা সবাই তৃণমূল কংগ্রেসকে একচেটিয়া ভোট দিয়েছেন। এখন শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সংখ্যালঘুরা নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থে হৈ হৈ করে সবাই বিজেপি-কে ভোট দিয়েছেন।' 

এদিকে কংগ্রেস দুই কেন্দ্র দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে থাকলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তি নোটাকেও হার মানাচ্ছে। রেজিনগরের সফিউজ্জামান শেখ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে চলে যান প্রথম রাউন্ড গণনা শেষেই। তিনি বলেন, “প্রথম রাউন্ড দেখলাম। খাতা খুলেছি। ২-৩টে শিট দেখলাম। কিছু মানুষ ভোট দিয়েছে। জিরো করেনি।প্রথম রাউন্ড দেখলাম। খাতা খুলেছি। ২-৩টে শিট দেখলাম। কিছু মানুষ ভোট দিয়েছে। জিরো করেনি।”

নন্দীগ্রামের ভোটেও বিজেপি লিড বাড়াচ্ছে। গণনাকেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেননি বলেও দাবি করেছেন বিরোধীরা। যদিও বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি বলেন, ‘তাঁরা এজেন্ট পাননি, তাই দিতে পারেননি।’ এই দুই কেন্দ্রে প্রথম থেকেই লিড করছে বিজেপি।