মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই তৎপরতা। আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার খুন ও ধর্ষণ কাণ্ডে সৎকারে বেনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh)। ওড়িশা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৯ তারিখ উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Subhendu Adhikari) ঘোষণার পরেই সোমবার খড়দহ থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেন অভয়ার বাবা। নির্মল ঘোষ-সহ তিন জনের বিরুদ্ধে জোর করে নির্যাতিতার দেহ সৎকার করার অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

আর জি কর হাসপাতালে (R G Kar Medical College And Hospital) তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার খুন ও ধর্ষণ কাণ্ডের পুনর্তদন্ত করবে রাজ্য সরকার৷ রবিবার, পানিহাটিতে অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি জানান, আদালতের নজরদারিতে সিবিআই (CBI) তদন্তের পাশাপাশি ১৯৫২ সালের বিশেষ আইনে মেনে নতুন করে তদন্ত করবে রাজ্য। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানান, অভিয়ার দেহ কেন তড়িঘড়ি পানিহাটি শ্মশানে সৎকার করা হল, শ্মশানের রেজিস্ট্রারে কেন নিকট আত্মীয়র স্বাক্ষর নেই, শ্মশানে সেদিন কী ঘটেছিল সেই বিষয়ে তদন্ত  করবে পুলিশ। এই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। 

২ বছর আগে এই দিনই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালে (RG Kar) কর্তব্যরত চিকিৎসক-পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে ধর্ষণ-খুনে দোষী সঞ্জয় রাই ইতিমধ্যেই আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু সেই রায়ে খুশি নয় অভয়ায় পরিবার। অভয়ার মা রত্ন দেবনাথ বর্তমানে শাসকদলের পানিহাটির বিধায়ক। তিনি সম্প্রতি তাঁর মেয়ের সঙ্গে ঘটনা নৃশংস ঘটনার পুনর্তদন্তের দাবি জানিয়ে চিঠি লেখেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “মাননীয়া রত্না দেবী নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পুনর্তদন্তের আর্জি জানিয়ে আমাকে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যসচিব ও বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৫২ সালের বিশেষ কমিশন আইনের আওতায় পুনর্তদন্তের ঘোষণা করছি।” 

রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের অভিযোগ, শ্মশানের নির্ধারিত খরচ পরিবারের লোক দেয়নি, এমনকী মৃতার পরিবারের কোনও ক্লোজ রিলেটিভ বা নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জি মিলে এই পুরো কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।” মঞ্চ থেকেই স্মরণসভায় উপস্থিত ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট জানান, শ্মশানের এই অনিয়মের অংশে যেহেতু সিবিআই তদন্তের সুযোগ নেই, তাই রাজ্য পুলিশ স্বাধীন ভাবে কাজ করে আইনি পদক্ষেপ করবে। 

সেই মতো অভিযোগ দায়ের করেন অভয়ার বাবা। তারপরেই সৎকার-কাণ্ডে প্রথম গ্রেফতার করা হল নির্মল ঘোষকে।