তারাপীঠের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। প্রথমে আট জনের মৃত্যুর খবর মিললেও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক জনের মৃত্যু হওয়ায় এই সংখ্যা বেড়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচ জন রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু'টি শিশুও রয়েছে। ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখনও বেশ কয়েক জন চিকিৎসাধীন। সোমবার ভোরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুণ্যনগরীতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তারাপীঠের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯! ধৃত হোটেলে মালিকের ছেলে
Sponsored

স্থানীয় ও দমকল সূত্রে খবর, সোমবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ হোটেলের রিসেপশন সংলগ্ন অংশে প্রথম আগুন লাগে। সেই সময় হোটেলের আবাসিকরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। ফলে আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়া দ্রুত বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লেও প্রাথমিক ভাবে কেউ তা টের পাননি। বন্ধ ঘরের ভিতর বিষাক্ত ধোঁয়া ঢুকে পড়ায় অনেকে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বদ্ধ ঘরে ধোঁয়ার কারণেই অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে রামপুরহাট থেকে দমকলের দু'টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কিছু ক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হোটেল থেকে মোট ২৮ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দাবি, বাতানুকূল যন্ত্রের এমসিবি-তে শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। ধৃত কল্যাণ পালের দাবি, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ আগুন নজরে আসতেই নৈশপ্রহরী ফায়ার অ্যালার্ম ও কলিং বেল বাজিয়ে আবাসিকদের সতর্ক করেছিলেন এবং আগুন নেভানোর চেষ্টাও চালানো হয়। তবে ধোঁয়া ওপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অন্য দিকে, উদ্ধার হওয়া আবাসিকদের একাংশের অভিযোগ, বিপদের সময় হোটেলের পিছনের দিকের জরুরি দরজা বন্ধ ছিল। ফলে ধোঁয়ার মধ্যে পথ না পেয়ে বহু মানুষ ঘরের ভিতরেই আটকে পড়েন। পুলিশ ও দমকল দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল কি না, জরুরি নির্গমন পথ যথাযথ রাখা হয়েছিল কি না এবং সরকারি নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখেই তদন্ত চালানো হচ্ছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













