Site Logo

ঋণমুক্তির কোনো রোডম্যাপ নেই বাজেটে! তোপ শোভনদেবের

EBBS Desk·
ঋণমুক্তির কোনো রোডম্যাপ নেই বাজেটে! তোপ শোভনদেবের

রাজ্যের ঋণের বোঝা কমানোর কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বাজেটে। উল্টে বিরোধী আসনে থাকার সময় যে সব সামাজিক প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করত বিজেপি, ক্ষমতায় এসে বাধ্য হয়ে সেই প্রকল্পগুলিকেই নাম বদলে কার্যত চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বিধানসভায় বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এই ভাষাতেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের।

Sponsored

Sranchi In Article

বিধানসভায় বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে শোভনদেব প্রশ্ন তোলেন, সরকার একদিকে রাজ্যের ঋণের বোঝা নিয়ে বারবার সরব হচ্ছে, অথচ চলতি অর্থবর্ষেও নতুন করে ১ লক্ষ ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে বাজেটে। যদি এত টাকার নতুন ঋণই নেওয়া হয়, তবে ঋণ কমানোর বাস্তব পরিকল্পনা কোথায়? তাঁর দাবি, শুধু ঋণের অঙ্ক তুলে ধরে বিরোধী শিবিরের মতো রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলে চলবে না, ঋণমুক্তির বাস্তব রোডম্যাপও সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।

Sponsored

Merlin In Article

বাজেটে কেন্দ্রীয় অনুদানের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা নিয়েও সরব হন তিনি। সংশোধিত হিসাবের তথ্য তুলে ধরে জানান, কেন্দ্রীয় অনুদান ২২ হাজার কোটি টাকা থেকে একলাফে বেড়ে ৭১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। রাজ্যের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে শোভনদেব বলেন, এটা কি আদৌ স্বনির্ভর বাংলা, নাকি দিল্লিনির্ভর বাজেট? রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব বাড়ানোর দিকেই সরকারের আসল জোর দেওয়া উচিত ছিল বলে মত তাঁর।

Sponsored

Shyam Sundar In Article

সরকারের রাজস্ব ও জিএসটি আদায়ের হিসাবের মধ্যেও বড়সড় অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেন শোভনদেব। তিনি বলেন, একদিকে যেখানে জিডিপি বৃদ্ধির হার কমার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আবার রাজ্য জিএসটি আদায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে দেখানো হয়েছে। অথচ কেন্দ্রীয় জিএসটি আদায় কমার প্রক্ষেপণ রয়েছে এই বাজেটেই। এই দুই বিপরীতধর্মী হিসাবের মেলবন্ধন কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

Sponsored

Camelia In Article

একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি নিয়ে শাসক দলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি। শোভনদেবের অভিযোগ, বিরোধী থাকাকালীন যে সামাজিক প্রকল্পগুলির তীব্র বিরোধিতা করত বিজেপি, আজ ক্ষমতা পেয়ে নতুন নামে বা নতুন কাঠামোয় সেগুলিকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। অর্থাৎ বিরোধিতার প্রকল্পই এখন সরকারের আসল ভরসা।

Sponsored

Techno India In Article

অবশ্য উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য বাজেটে ঘোষিত একাধিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে সমর্থন জানিয়েছেন শোভনদেব। তিনি স্পষ্ট করেন, উন্নয়নের প্রশ্নে সদর্থক সিদ্ধান্তের পাশে তৃণমূল সবসময় থাকবে। তবে নদীভাঙন রোধ, সেচ, কৃষি, বিদ্যুৎ এবং মিড-ডে মিলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ বা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। বিশেষ করে মিড-ডে মিলে ডিম সরবরাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ভাষণের শেষে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অতীত সরকারের সমালোচনা করে বর্তমানের দায় এড়ানো যাবে না। নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ঋণ কমানোর স্পষ্ট নীতি না থাকলে শুধু খাতা-কলমের পরিসংখ্যান দিয়ে অর্থনীতির বাস্তব চিত্র বদলানো সম্ভব নয়।

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from রাজ্য

View All →