অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না পৌঁছনোয় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের আঁচ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বৃহস্পতিবার উত্তর থেকে দক্ষিণ— রাজ্যের একাধিক জেলায় প্রশাসনিক দফতর ঘেরাও, পথ অবরোধ এবং ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে মহকুমাশাসকের (এসডিও) দফতরে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করেন উপভোক্তা মহিলারা। দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলে তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে বালুরঘাট থানার বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, তিন মাস ধরে তাঁরা ভাতা থেকে বঞ্চিত।

একই ছবি ধরা পড়েছে মালদহের ইংলিশবাজার পুরসভাতেও। সেখানে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও সুরাহা না মেলায় পুরভবনে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি থাকায় একাধিক ঘর থাকাকে অজুহাত করে বহু যোগ্য দরিদ্র পরিবারের নাম সরকারি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে মহকুমাশাসকের দফতরেও লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। মহকুমাশাসক সাধন দেবনাথ মাইকিং করে অনলাইনে অভিযোগ জানানোর বার্তা দিলেও অসন্তোষ কমেনি। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি রঘুনাথপুর-চন্দনকিয়ারি রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন মহিলারা।

উত্তর ২৪ পরগনাতেও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যমগ্রাম চৌমাথা ও সংলগ্ন সোদপুর রোড অবরোধের জেরে যশোর রোডে তীব্র যানজট তৈরি হয়। পুলিশ গিয়ে অবরোধ তোলার পর মহিলারা মধ্যমগ্রাম পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের ঘর ঘেরাও করেন। অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভাতেও ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সে সময় পুরসভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সুমন হীরা। এছাড়াও বনগাঁ মহকুমা এলাকাতেও একই দাবিতে বিক্ষোভের খবর মিলেছে। 

বুধবার কোচবিহারের পর বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে সরব হন বঞ্চিত মহিলারা। পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার এক নম্বর ব্লকের পর্যটন কেন্দ্র, চিলাপাতা সংলগ্ন আদিবাসী গ্রামের মহিলারাও বঞ্চিত। টাকা, না মেলায় তাঁরা কাঠগড়ায় তুলেছেন ব্লক প্রশাসনকে। ১৭ অগাস্ট রাজ্য জুড়ে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা। প্রথম দিন অনেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা অ্যাকাউন্টে পেয়ে গেলেও, বহু মহিলা এখনো বঞ্চিত। আর এই নিয়ে ক্ষোভ জমেছে আলিপুরদুয়ারের চিলাপাতা জঙ্গল সংলগ্ন উত্তর চকোয়াখেতি গ্রামের একটা বড় অংশের দরিদ্র আদিবাসী মহিলাদের মধ্যে। দিনমজুরি করে সংসার চালানো এই সমস্ত মহিলাদের অনেক আশা ছিল, তাঁরা সকলেই ওই প্রকল্পের টাকা পাবেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁদের হতাশা ছাড়া কিছুই মেলেনি। আর এই টাকা না ঢোকার দায় তাঁরা দিয়েছেন ব্লক প্রশাসনের ওপর। তাঁদের দাবি, ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য জায়গামতো না পাঠানোয় তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভও ছড়িয়েছে ওই গ্রামে। সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা না মেলার ক্ষোভে রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক স্তর কার্যত উত্তাল।