আরামবাগ থেকে আলিপুরদুয়ার— রাজ্যজুড়ে এখন এক ছবি। প্রতি মাসে ব্যাঙ্কের পাসবই আপডেট করতে গিয়ে হাতে আসছে শুধুই শূন্য। ভোটের সময়ে ফলাও করে প্রচার করা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ যে আসলে এক বড় মাপের রাজনৈতিক গিমিক, নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম তিন মাস কাটার আগেই তা পরিষ্কার হয়ে গেল বলে সরব ক্ষুব্ধ মহিলারা। কেবল নতুন প্রকল্পের টাকা না পাওয়াই নয়, অভিযোগ উঠেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো নিয়মিত সুবিধাও এই বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে আমজনতার ক্ষোভ। 

পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে নবান্ন কিংবা হাবড়া, হাওড়া, হিঙ্গলগঞ্জ, হাড়োয়ার মতো গ্রামীণ এলাকাগুলিতে প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েও মিলছে না সদুত্তর। মহকুমা বা জেলা স্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, তাঁদের কাছেও উপরতলা থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশিকা বা তথ্য আসেনি। ফলে প্রশাসনের ওপর থেকে নিচ— সর্বত্রই এক ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমনকি শাসক শিবিরের এই বিভ্রান্তিকর পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে বিজেপি সমর্থক মহিলাদের একাংশকেও। 

জুন মাস থেকে রাজ্যজুড়ে নতুন সরকারের অধীনে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করার কথা বলা হয়েছিল। প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বঙ্গকন্যাদের। সেই প্রলোভনে পা দিয়ে মহিলারা অফলাইন এবং অনলাইন— উভয় মাধ্যমেই ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও অ্যাকাউন্টে এক ফোঁটা টাকা জমা পড়েনি। 

আরামবাগে ইতিমধ্যেই কয়েকশো বঞ্চিত উপভোক্তা জড়ো হয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট আলটিমেটাম, আগামী ১০ দিনের মধ্যে যদি সমস্ত বকেয়া টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা না পড়ে, তবে তাঁরা কোনো আবেদন-নিবেদনের পথে না হেঁটে সরাসরি জাতীয় সড়ক অবরোধে নামবেন। 

একই সুর আলিপুরদুয়ার থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ভোটের সুবিধা নিতে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা আদতে এক প্রকান্ড জুঁমলা ছাড়া কিছুই নয়। এক ক্ষুব্ধ উপভোক্তার কথায়, আমাদের বলা হয়েছিল প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু এখন আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারটাও বন্ধ, আর অন্নপূর্ণারও দেখা নেই। মানুষ এখন আবার ভোট করার দাবি তুলছে, যাতে এই মিথ্যাশ্রয়ী সরকারকে উচিত শিক্ষা দেওয়া যায়। 

প্রশাসনিক দফতরগুলির সামনে বঞ্চনার শিকার হওয়া মহিলাদের এই তীব্র বিক্ষোভ আগামী দিনে নতুন সরকারকে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল।